অধ্যক্ষ সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারীর ২য় মহাপ্রয়াণে স্মৃতিচারণ সভা

স্টাফ রিপোর্টার : অখণ্ডমণ্ডলেশ^র শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরম হংসদেবের শ্রীচরণাশ্রিত চাঁদপুর অযাচক আশ্রমের সাবেক অধ্যক্ষ প্রয়াত সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারীর দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চাঁদপুর শহররর পুরান আদালত পাড়াস্থ শ্রী শ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পুণ্য জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় সমবেত উপাসনা, সকাল ১০টায় ব্রহ্মগায়ত্রি গীত ও নীরব মহানাম জপ যজ্ঞ, সকাল সাড়ে ১০টায় হরিওঁ কীর্তন, সকাল সাড়ে ১১টায় স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মৃতিচারণ সভায় বক্তাগণ প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারী। তিনি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্ম যাচক বা লোক হয়েও কখনো তাকে সাম্প্রদায়িক ভাবাপন্ন লোক বলে আমাদের মনে হয়নি। তার জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিলো তিনি জাত, পাত বা কোন ধর্মের লোক হিসেবে কাউকে বিচার না করে মানুষ হিসেবে সকলকে বিবেচনা করেছেন। আর মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন নীরবে নিভৃতে।

তাকে সর্ব শ্রেণী-পেশার মানুষই ভালোবাসতেন সমানভাবে। তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি তার মৃত্যুর পর। তার মৃত্যু সংবাদে তাকে শেষবারের মত একবার দেখার জন্য হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই ছুটে এসেছেন অযাচক আশ্রমে। তাকে তার প্রিয় আশ্রম প্রাঙ্গণেই চিরতরে সমাহিত করা হয়। তার সমাধিস্থল যিনি খনন করেন তিনিও ছিলেন একজন মুসলীম।

যদি তিনি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ভালো না বাসতেন তাহলে একজন মুসলিম কোনো কিছুতেই তার সমাধির স্থানের মাটি খোঁড়া বা গর্ত করতে পারতেন না। সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারীর বড় স্বপ্ন ছিলো স্বামী স্বরূপানন্দের পুণ্য জন্মস্থান উদ্ধার করা। সেই উদ্ধার পর্বে হিন্দু-মুসলমানসহ অনেকেই কাজ করেছেন। আজ সেই স্থান উদ্ধার হয়েছে পরিপূর্ণ হয়েছে তার স্বপ্নের। কিন্তু একটি স্বপ্ন এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। তিনি চেয়েছিলেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে বিশ^নন্দিত একটি ধ্যানমন্দির নির্মাণ করতে। যে মন্দিরের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মাঝে স্বরূপানন্দের নাম ছড়িয়ে পড়বে।

ছড়িয়ে পড়বে চাঁদপুরের ইতিহাস আর সংস্কৃতির নাম। বিশ^মাঝে প্রচার পাবে চাঁদপুরের নাম ও পরিচিতি। কিন্তু তা তিনি করে যেতে পারেন নি, তবে তিনি শুরু করে দিয়ে গেছেন। আমরা আশা ও বিশ^াস রাখি তার রেখে যাওয়া কাজ সম্পন্নে বর্তমান নেতৃবৃন্দ আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তার স্বপ্ন পূরণ হবে। এস্থানে শোভা পাবে আন্তর্জাতিক মানের ধ্যানমন্দির।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে স্মৃতিচারণ সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর হরিবোলা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার,

চাঁদপুর জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সস্পাদক অ্যাডঃ রনজিত রায় চৌধুরী, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক ও সমম্বয়কারী তাপস কান্তি সরকার, চাঁদপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক রাধা গোবিন্দ গোপ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তপন সরকার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁদপুর সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বিমল চৌধুরী প্রমুখ।

চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দাসের সভাপ্রধানে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাসের পরিচালনায় এ সময় নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, জেলা পূজা পরিষদ নেতা গৌতম কুমার ঘোষ, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি অরুণ কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দাস (চাঁদপুর), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন দাস, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মনতোষ সাহা, প্রণব সাহা, অর্থ সম্পাদক সঞ্জয় ভৌমিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক শম্ভু কর্মকার প্রমুখ।

স্মৃতিচারণ সভা শেষে শান্তিবাচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। পরে সকলের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এদিনের পুরো অনুষ্ঠানটি ছিলো খুবই লক্ষণীয়। হরিওঁ কীর্ত্তনে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে উঠে। উপস্থিত সকলেই কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন প্রয়াত কবিরাজ সুখরঞ্জন মহারাজকে।

একই রকম খবর