আজ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন: ভোটযুদ্ধে ৫০ প্রার্থী

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : আজ ১৭ অক্টোবর সোমবার চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা।

মনোনয়ন জমাদান থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনে ৮৯টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভায় ১ হাজার ২শ’ ৬৯জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৭০ জন ও নারী ২৯৯ জন। জেলার ৮ কেন্দ্রের মোট ১৬ টি বুথে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

পৌরসভার মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যরা নির্দলীয় এ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট প্রদান করবেন।

এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের নানা ঘটনার পর এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমাদান থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

রিটার্নিং অফিসার ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কঠোর মনিটরিং এর মাধ্যমে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণে দায়িত্ব পালনে সকল কর্মকর্তাকে যে কোন প্রভাব উপেক্ষা করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান
৮জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩২ জন পোলিং অফিসার এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং র্ফোস ,বিজিবি ও র্যাব, মোবাইল টিম (১প্লাটুন রেব ও বিজিবি-( প্রত্যেকটি টিমে ২০ জন করে দায়িত্ব পালন করবে) এবং একাধিক স্ট্রাইকিং র্ফোস, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সাধারন সদস্য পদে ৩৬ ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ১২ জনসহ সর্বমোট ৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন কর্মীবান্ধব নেতা, মানবিক জনপ্রতিনিধি এবং গণমানুষের প্রিয়জন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রশাসক এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী (মোবাইল) ও অপরজন হলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (প্রবাসী) জাকির হোসেন প্রধানীয়া (আনারস), প্রতীক নিয়ে ভোটের হিসাব নিকাশে মুখোমুখি হচ্ছেন।

চেয়ারম্যান পদে তারা দুইজনে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে এদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও আলোচনা এগিয়ে রয়েছেন আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী।

এই প্রার্থী দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার গ্রহণযোগ্য আছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কচুয়া এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সমর্থন জানিয়েছেন।

পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে গত ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কর্মদক্ষ এবং পরিশ্রমী জনপ্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭-অর্থ বছর হতে ২০২১-২২ অর্থ বছরে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলা পরিষদের আওতাধীন ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা পরিষদ জেলার গণমানুষের আস্থার অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিলো।

তিনি একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বকালিন সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও অন্যতম সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানীয়াও ইতিমধ্যে প্রতিটি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট এবং দোয়া প্রার্থনা করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় ভোটারদের কাছে ছুটে বেড়িয়েছেন। দিয়েছেন নির্বাচিত হতে পারলে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি। তিনি বিজয়ী হলে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে জেলা পরিষদের প্রাপ্ত বরাদ্দ সুষম বন্টন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাকির হোসেন প্রধানীয়া ভোটারদের সাড়া দেখে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ( চাঁদপুর সদর) ১নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিবন্ধীতা করবেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক (হাতি), জাকির হোসেন হিরু ( বৈদ্যুতিক পাখা), মোঃ শাহ আলম খান (তালা), মোঃ মাহবুবুর রহমান (উট পাখি), আবুল বারাকাত লিজন পাটওয়ারী (ঘুড়ি),।

২নং ওয়ার্ড (হাইমচর) থেকে খোরশেদ আলম (তালা) ও এস. এম. কবির (টিউবওয়েল)।

৩নং ওয়ার্ড (ফরিদগঞ্জ), থেকে মশিউর রহমান (তালা), মোঃ শাহাবুদ্দিন হোসেন (হাতি), মোঃ মিজানুর রহমান ভূইয়া (ঘুড়ি), আলী আক্কাস (টিউবওয়েল),।

(মতলব দক্ষিণ) ৪ নং ওয়ার্ড থেকে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ আল-আমিন ফরাজী (হাতি), জসিম উদ্দিন (টিউবওয়েল), মোঃ রিয়াদুল আলম (তালা), বাদল ফরাজী (উট পাখি)।

(মতলব উত্তর) ৫ নং ওয়ার্ড থেকে মোঃ আলাউদ্দিন সরকার (তালা), মিনহাজ উদ্দিন খান (হাতি), মোঃ হাবিবুর রহমান (বৈদ্যুতিক পাখা) ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসা (টিউবওয়েল)।

(কচুয়া উপজেলা) ৬ নং ওয়ার্ড থেকে জোবায়ের হোসেন (হাতি), তৌহিদ ইসলাম (টিউবওয়ের), বিল্লাল হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), আহসান হাবিব প্রাঞ্জল (তালা),(অটোরিক্সা) ও সামছুুল হক (উট পাখি)।

(হাজীগঞ্জ উপজেলা) ৭নং ওয়ার্ড থেকে, মোঃ বিল্লাল হোসেন (টিউবওয়েল), আব্দুর রব মিয়া (হাতি) ও জসিম উদ্দিন (তালা)।

(শাহরাস্তি উপজেলা) ৮নং ওয়ার্ড থেকে, মাহবুব আলম (বৈদ্যুতিক পাখা), মোঃ জাকির হোসেন (ক্রিকেট ব্যাট), মোঃ মনির হোসেন (টিউবওয়েল), মোঃ বিল্লাল হোসেন (অটো রিক্স), মোঃ ইব্রাহিম খলিল পন্ডিত (তালা)।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হিসাবে ১ নং ওয়ার্ড (সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর) থেকে ৩ আয়শা রহমান (দোয়াত কলম), জোবেদা মজুমদার খুশি (ফুটবল)।

২ নং ওয়ার্ড (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিন, কচুয়া) থেকে রওনক আরা (টেলিফোন), শামছুন নাহার (টেবিল ঘড়ি), নাজমা আক্তার আঁখি (দোয়াত কলম), তাছলিমা আক্তার (ফুটবল)।

৩ নং ওয়ার্ড (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি) থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসী (ফুটবল), মুক্তা আক্তার (দোয়াত কলম), রুবি বেগম (বই), ছকিনা বেগম (মাইক), শিউলি আক্তার (হরিন), নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

একই রকম খবর