কাল চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন: ভোটযুদ্ধে ৫০ প্রার্থী

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : আগামীকাল ১৭ অক্টোবর সোমবার চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। মনোনয়ন জমাদান থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এই নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেই লক্ষ্যে ৮টি উপজেলায় ৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৬ টি বুথে মোট ৪৮ টি সিসি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রত্যেক বুথে ৩টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

কাল সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই নির্বাচনে ৮৯টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভায় ১ হাজার ২শ’ ৬৯জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৭০ জন ও নারী ২৯৯ জন। জেলার ৮ কেন্দ্রের মোট ১৬ টি বুথে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। পৌরসভার মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যরা এ নির্বাচনের ভোটার।

আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সাধারন সদস্য পদে ৩৫ ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারীর (মোবাইল) প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী জাকির হোসেন প্রধানীয়া (আনারস) প্রতীক।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ভোটের হিসাব নিকাশ। তবে আইনি জটিলতায় ইতিপূরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ ইউসুফ গাজীর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন বাতিল করেন । আগামী ১৭ই অক্টোবর চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ২ হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে ঘাম জরাচ্ছেন।

একজন হলেন কর্মীবান্ধব নেতা, মানবিক জনপ্রতিনিধি এবং গণমানুষের প্রিয়জন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রশাসক এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী। ও অপরজন হলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (প্রবাসী) জাকির হোসেন প্রধানীয়া। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বর্তমানে ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দুজনেই।

তারা দুইজনে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে এদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও আলোচনা এগিয়ে রয়েছেন আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী। এই প্রার্থী দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার গ্রহণযোগ্য আছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কচুয়া এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে গত ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কর্মদক্ষ এবং পরিশ্রমী জনপ্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭-অর্থ বছর হতে ২০২১-২২ অর্থ বছরে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলা পরিষদের আওতাধীন ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা পরিষদ জেলার গণমানুষের আস্থার অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিলো। তিনি একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বকালিন সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও অন্যতম সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানীয়াও ইতিমধ্যে প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রতিটি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং দোয়া প্রার্থনা করছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় ভোটারদের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন। দিচ্ছেন নির্বাচিত হতে পারলে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি। তিনি বিজয়ী হলে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে জেলা পরিষদের প্রাপ্ত বরাদ্দ সুষম বন্টন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাকির হোসেন প্রদানিয়া ভোটারদের সাড়া দেখে জয়ের ব্যাপারে বলেন আমি শতভাগ আশাবাদী। তিনি ভোটার ও সাধারণ জনগণ সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কে বিজয়ী হবেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এই নির্বাচনে যদিও শুধু জনপ্রতিনিধিরাই ভোটার তবুও জেলার ৮টি উপজেলায় চলছে ভোটের আনন্দ। জেলার ৮ উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ১ হাজার ২শ’৬০ জনের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে চলছে জনপ্রতিনিধিদের মন জয় করার বক্তব্য

সাধারণ সদস্য পদে ( চাঁদপুর সদর) ১নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিবন্ধীতা করবেন সাবেক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক (হাতি), জাকির হোসেন হিরু ( বৈদ্যুতিক পাখা), মোঃ শাহ আলম খান (তালা), মোঃ মাহবুবুর রহমান (উট পাখি), আবুল বারাকাত লিজন পাটওয়ারী (ঘুড়ি),।

সদর ওয়ার্ড থেকে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মুকবুল হোসেন মিজি ও ইকবাল হোসেন পলাশ পাটোয়ারী নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছেন। তাই নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ৫ জন।

২নং ওয়ার্ড (হাইমচর) থেকে খোরশেদ আলম (তালা) ও এস. এম. কবির (টিউবওয়েল)।

৩নং ওয়ার্ড (ফরিদগঞ্জ), থেকে মশিউর রহমান (তালা), মোঃ শাহাবুদ্দিন হোসেন (হাতি), মোঃ মিজানুর রহমান ভূইয়া (ঘুড়ি), আলী আক্কাস (টিউবওয়েল),।

(মতলব দক্ষিণ) ৪ নং ওয়ার্ড থেকে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ আল-আমিন ফরাজী (হাতি), জসিম উদ্দিন (টিউবওয়েল), মোঃ রিয়াদুল আলম (তালা), বাদল ফরাজী (উট পাখি)।

(মতলব উত্তর) ৫ নং ওয়ার্ড থেকে মোঃ আলাউদ্দিন সরকার (তালা), মিনহাজ উদ্দিন খান (হাতি), মোঃ হাবিবুর রহমান (বৈদ্যুতিক পাখা) ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসা (টিউবওয়েল)।

(কচুয়া উপজেলা) ৬ নং ওয়ার্ড থেকে জোবায়ের হোসেন (হাতি), তৌহিদ ইসলাম (টিউবওয়ের), বিল্লাল হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), আহসান হাবিব প্রাঞ্জল (তালা),(অটোরিক্সা) ও সামছুুল হক (উট পাখি)।

(হাজীগঞ্জ উপজেলা) ৭নং ওয়ার্ড থেকে, মোঃ বিল্লাল হোসেন (টিউবওয়েল), আব্দুর রব মিয়া (হাতি) ও জসিম উদ্দিন (তালা)।

(শাহরাস্তি উপজেলা) ৮নং ওয়ার্ড থেকে, মাহবুব আলম (বৈদ্যুতিক পাখা), মোঃ জাকির হোসেন (ক্রিকেট ব্যাট), মোঃ মনির হোসেন (টিউবওয়েল), মোঃ বিল্লাল হোসেন (অটো রিক্স), মোঃ ইব্রাহিম খলিল পন্ডিত (তালা)।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হিসাবে ১ নং ওয়ার্ড (সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর) থেকে ৩ আয়শা রহমান (দোয়াত কলম), জোবেদা মজুমদার খুশি (ফুটবল)।

২ নং ওয়ার্ড (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিন, কচুয়া) থেকে রওনক আরা (টেলিফোন), শামছুন নাহার (টেবিল ঘড়ি), নাজমা আক্তার আঁখি (দোয়াত কলম), তাছলিমা আক্তার (ফুটবল)।

৩ নং ওয়ার্ড (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি) থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসী (ফুটবল), মুক্তা আক্তার (দোয়াত কলম), রুবি বেগম (বই), ছকিনা বেগম (মাইক), শিউলি আক্তার (হরিন), নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

একই রকম খবর