গণকবরস্থানের জায়গা প্রদানসহ মানবকল্যাণে একজন সোহেল রুশদী

বিশেষ কলাম——————–
নিজের জায়গা গনকবরস্থানকে প্রদান করেছেন । তাঁর উপর আবার অসহায় মানুষের জন্য। যাদের মাথাগোঁজার স্হান আছে কিন্তু নেই শেষ ঠিকানার জায়গাটুক। সেই শেষ ঠিকানা জায়গা করে দিয়েছেন একজন সাংবাদিক সোহেল রুশদী।

তিনি আর কেহ নয় ,তিনি হচ্ছেন শহর উপকন্ঠে চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলী গ্রামের বাসিন্দা ভুমিদাতা শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক সোহেল রুশদী। শুধু গনকবরের জমি দান করে নন।

পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির দাফন ও কাফনসহ এর আনুসাংগিক সব ব্যবস্হা নিজ খরচে করবেন। যা সত্যিই এক বিরল অতি মানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।চাঁদপুরের দৈনিক চাঁদপুর খবরসহ প্রায় সকল দৈনিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করা হয়েছে । এমনটি দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠে এনিয়ে গতকাল ৪ নভেম্বর সম্পাদকীয় প্রকাশ পেয়েছে । তিনি শুধু কবরস্থান নয়। ইতোপূর্বে তিনি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ,উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভূমি দান করেছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার পাশাপাশি অবলিলায় সমাজসেবা করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁরই অংশ হিসেবে মানবকল্যাণে ধর্মীয় এ কাজটি করে শাহতলীতো বটেই পুরো চাঁদপুরে এক প্রকার প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

তিনি ৩১অক্টোবর চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে এ নিজের জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ গণকবরস্থানের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ।

তিনি এখানে কবরস্থ ব্যক্তিদের তালিকা করে নিমপ্লেট করা, কবরস্থান সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা জেলা পরিষদের সহযোগিতা নিয়ে পাইলিং করারও আশ্বাস দিয়েছেন।

আশে-পাশে যাদের মৃত্যুর পর কবর দেয়ার নিজস্ব জায়গা নেই, তাদেরকেও এ গণকবরস্থানে দাফন করা, দাফন কাফনের খরচ বহন করাসহ যাবতীয় সকল কাযাদী সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি। ইতোপূর্বে এস্থানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কবরে ২৫জন ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে । কবরস্থান সংলগ্ন স্টেশনের রেললাইনের এ পার্শ্বে এলাকার ৪নং ওয়াড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম ফারুক কারী ও তার বড় ভাই সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী এ স্থানে একটি ওয়াল করে দিয়েছেন ।

নিঃসন্দেহে বলতে পারছি তিনিসহ এলাকাবাসী গণকবরস্থানের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা আসলেই সময়োপযোগী এক বিশাল মহৎ কাজ।

এ মহৎ কাজের পাশাপাশি সাংবাদিক সোহেল রুশদী তার এলাকাসহ সকল স্থানের মানুষের কল্যাণে সবসময় এগিয়ে আসেন। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার অসহায় মানুষদের চোখসহ বিভিন্ন চিকিৎসাও করিয়েছেন। যে কোন সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সহযোগিতায় করছেন উদারভাবে এবং উদার হস্তে ।

বহু গরীব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ওই বিয়েতেও তিনি নির্দিধায় অংশ নেন। এর পাশাপাশি তার দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ টি আহমেদ হোসেন রুশদী,তার পিতা সাবেক চেয়ারম্যান এডঃ তাহের হোসেন রুশদী এবং তাঁর গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু গরীব ছাত্র ছাত্রী বিনা -বেতনে লেখাপড়া এবং শিক্ষাথীদের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দিয়ে করে আসছে। তিনি শাহতলী কামিল মাদ্রাসার সাথে জড়িত।

ধর্মীয় দিক দিয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আথিক সহযোগিতাসহ তাঁতে অংশ নেন। এমন একজন সোহেল রুশদী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে থাকলে, সমাজের অবহেলিত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

দেশের যেসব স্থানে বেসরকারিভাবে এবং মসজিদ ও গণকবরস্থান তৈরিতে উদ্যোক্তারা সফল হয়েছেন তাদের কর্মকৌশল ও অভিজ্ঞতা জেনে নিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা সোহেল রুশদীর মত তাদের কাজ শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারি খাস জমি প্রদান, সরকারি অনুদান কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পৃষ্ঠপোষকতা কোথাও কোথাও উদ্যোক্তাদের জন্য হতে পারে প্রণোদনার মতো বিষয়। আশা করি ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার এদেশে ঘনবসতিপূর্ণ জনপদে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মসজিদ গণকবরস্থানের বিষয়টি সচেতন ব্যক্তি মাত্রই ভাববেন এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা থেকে নিশ্চিত করবেন। মানবকল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

পরিশেষে বলতে চাই এক সোহেল রুশদীর কর্মে শত সোহেল রুশদী তৈরীর হোক সমাজে। তা হলে মানবতা বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে।

লেখক পরিচিতি:
শেখ মহিউদ্দিন রাসেল
লেখক ,সমাজকমী
ও প্রশাসনিক কমকতা
জেলা পরিষদ,চাঁদপুর ।
তাং ৪.১১.২০২২ খ্রি:

একই রকম খবর