ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং চাঁদপুরে উপড়ে পড়ছে গাছপালা

আহম্মদ উল্যাহ : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চাঁদপুরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রাস্তার ওপর উপড়ে পড়া কয়েকটি গাছ এরই মধ্যে সরিয়ে ফেলেছেন সাধারণ পথচারী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদপুর বাবুরহাট-মুন্সিরহাট ও মতলব সড়কেও বড় গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও শহরের ও গ্রামের কয়েকটি স্থানের গাছ ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে গাছ অপসারণ করা হয়েছে। আরও বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে রাস্তায় পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুরে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাব বেশী পড়েছে মেঘনা নদীর পশ্চিমে মতলব উত্তর উপজেলা থেকে শুরু করে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ছোট বড় চরাঞ্চলে। সেখানে বসবাসকারী লোকদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার আলোকে জেলা তথ্য অফিস শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকদেরকে সাইক্লোন সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উচু ভবনে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চাঁদপুরে বৈরী আবহাওয়ার সথে রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারনে চাঁদপুর থেকে সকল রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চাঁদপুরে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য। জেলার মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে ১২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ মো. শোয়েব জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বাড়বে। চাঁদপুর নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের মোকাবিলায় চাঁদপুর নদীবন্দর এলাকায় জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বয় করবে। অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৮ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

একই রকম খবর