চাঁদপুরে “আন্তর্জাতিক সার্বজনীন তথ্যে অভিগম্যতা দিবস” পালিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: জেলা প্রশাসন চাঁদপুরের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের সহযোগিতায় গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ সকাল ১১টায় “আন্তর্জাতিক সার্বজনীন তথ্যে অভিগম্যতা দিবস” ২০২২ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ইউনেস্কো দিবসটির মূলপ্রতিপাদ্য করেছেÑ “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-গভর্ন্যান্স ও তথ্যে অভিগম্যতা” (Artificial Intelligence, e-Governance and Access to Information)

বাংলাদেশ তথ্য কমিশন দিনটিকে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এ বছর “তথ্য প্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক” এই প্রতিপাদ্যকে দিবসটির উপজীব্য করেছে তথ্য কমিশন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বশির আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বশির আহমেদ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত তথ্যের বিরম্বনার শিকার হচ্ছি। ডিজিটাল যুগে তথ্যের বিরম্বনা যেমন আমরা দেখছি পাশাপাশি তথ্যের অবাধ প্রবাহও আমরা দেখছি যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে অধিক তথ্য গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি সকল দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছি নিজ নিজ ওয়েব পোর্টালগুলো হালনাগাদ করার জন্য। আমরা অতি দ্রুততর সময়ের মধ্যে সকল ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ করে ফেলবো।

তিনি বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে তথ্যের বিরম্বনা থাকবেই। তারপরেও আমাদেরকে সঠিক তথ্য সঠিক সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে হবে এবং তথ্য প্রত্যাশীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে তথ্য সেবা প্রদান করে যেতে হবে।

এ বিষয়ে সেবাদাতা ও সেবা গ্রহীতা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নাই। তিনি সনাক ও টিআইবি পরিচালিত ওয়েব পোর্টাল স্টাডি রিপোর্টটির উপর সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং আমাদের জন্য একটি সহায়ক ডকুমেন্ট। তিনি এ স্টাডি রিপোর্টটি অনুসরণ করে নিজ নিজ ওয়েব পোর্টালগুলো হালনাগাদ করার আহবান জানান। তিনি রিপোর্টটি প্রস্তুত করে প্রশাসনের দৃষ্টিতে আনার জন্য সনাক ও টিআইবিকে ধন্যবাদ জনান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় বলেন, এসডিজির যে লক্ষ্যগুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। আমাদেরকে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে তথ্য পাওয়া ও নেয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি ওয়েব পোর্টালে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে যে তথ্য পাওয়ার কথা তা যদি ওয়েব পোর্টালে না থাকে তাহলে জনভোগান্তি বাড়বে। তিনি সকল প্রতিষ্ঠানে তথ্য কর্মকর্তা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে বলেন এর ফলে জনগণের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং জনভোগান্তি কমবে।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেশমা খাতুন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সনাক-চাঁদপুরের সাবেক সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত এবং সহ-সভাপতি ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া। এছাড়াও মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন, রজত শুভ্র সরকার, উপ-পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর, চাঁদপুর এবং মো: মুরাদুল হাসান, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর।

তথ্য অধিকার আইন ও ওয়েবপোর্টাল স্টাডি রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানা। তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট তথা ওয়েবপোর্টাল। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়েবপোর্টাল কাঙ্খিত মাত্রায় হালনাগাদ না থাকার কারণে জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি’র সহায়তায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর জেলা ও জেলার ৭২টি এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপোর্টালগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

তিনি আরও বলেন, ওয়েবপোর্টালগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ঘাটতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে এনে হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা এ পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে উক্ত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের আলোকে চাঁদপুর জেলা ও চাঁদপুর সদর উপজেলার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপোর্টালগুলো শতভাগ হালনাগাদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য উপজেলাসমূহের পোর্টালগুলো হালনাগাদের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়াও তিনি দিবসটির উপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সনাক চাঁদপুরের সহযোগিতায় রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। র‌্যালি ও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাক-চাঁদপুরের সদস্যবৃন্দ, অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও ইয়েস গ্রুপের সদস্য ও টিআইবি’র কর্মীবৃন্দ।

একই রকম খবর