চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে আলোচনা সভা

এম এম কামাল /সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ ও জোরালো ভূমিকা পালন করছে। অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশ প্রতিনিয়ত নানা তথ্য- উপাত্ত পুলিশকে অবহিত করছে এবং সে আলোকে পলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফলে সামাজিক অপরাধীর প্রভাব আরো কমে এসেছে।

গতকাল (২৯ অক্টোবর) শনিবার “ চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২২” উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন,‘ কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা গেলে পুলিশের কাজে তাদের সহযোগিতা যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে। কমিউনিটি পুলিশ জোরদার হলে সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে। ছোট ছোট বিরোধ উৎসের সময়ই শেষ করে দিতে পারলে থানায় আর মামলা করতে হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং হলো জনগণের কাছে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের জবাবদিহি করা। দেশের জনগণের সঙ্গে থানা-পুলিশের দূরত্ব কমলেই কমিউনিটি পুলিশিং সফল হবে। কমিউনিটি পুলিশ সক্রিয় হলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক দ্রব্য, ইভটিজিং ও বাল্য বিয়ে থাকবে না। আসলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক অনুশাসন না থাকার পরিনাম কী ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন ফিরিয়ে আনা, মূল্যবোধ নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা।

পাশাপাশি আমরা পাড়ায়-মহল্লায় নিজ নিজ উদ্যোগে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি। নিজেদের মহল্লা অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারি। আর এটা সম্ভব নিজেদের এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং আন্দোলন আরো জোরদার করা। পুলিশের পক্ষে সবকিছুর ওপর নজরদারি রাখা অনেক সময় সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা। এ জায়গায় আমরা সহায়তাকারীর ভূমিকা নিতে পারি।

সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার ও কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. মিলন বিপিএম (বার) বলেন, ১৮২৯ সালে রবার্ট পিল নামে একজন সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণের সুব্যবস্থা চালু করেন। ময়মনসিংহে ১৯৯২-৯৪ সালে টাউন ডিফেন্স নামে প্রথম একটি দল গঠিত হয়। এটাই ছিলো কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রথম সোপান। এটিকে মডেল নিয়ে তারপরে সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। জনগণের সেবার স্বার্থেই এই কমিটিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম। চাঁদপুর অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপ্রিয় এলাকা। চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। যা আমি দেখে মুগ্ধ। নিষ্ঠা ও সুন্দরভাবে কাজ করলে পুলিশ ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করবে। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থা তৈরী করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকা থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত না করতে পারলে কোন গোষ্ঠী উন্নতি লাভ করতে পারেন না। দেশের টেকসই উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের গৃহিত এসডিজির যে লক্ষ্যমাত্রা, তা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করলে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবো। শুধুমাত্র কমিউনিটি পুলিশিং নয়, সবাই নিজ-নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও সমাজের জন্য করতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মানুষের শান্তি রক্ষায় আমরা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আমরা ভাগ করতে পারি না। যার যার যোগ্যতায় এই ব্যবস্থাপনাকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্প্রতি আমাদের শহরে কিশোর গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের যে কোনভাবে প্রতিহত করতে হবে। কারণ আমরা চাঁদপুর শহরকে শান্তির শহরে হিসেবে রাখতে চাই। এই শহরে হানাহানি, সন্ত্রাস, গুজব ও জঙ্গি থাকবে না। গুজব ও সরকারি বিরোধী কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

চাঁদপুরের পৌর মেয়র এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য কমিউনিটি পুলিশিং বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও গতিশীল করার জন্য প্রতিবছরে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে’ পালিত হয়ে আসছে। সামাজিক অবক্ষয়, বিচ্যুতি, অপরাধসহ জনসচেতনতায় কমিউনিটি পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজ, মাদক ও ইভটিজিং-সহ সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দেশ ও মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে চাঁদপুরের কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা।

জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহ-সভাপতি ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়ার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ডাঃ এস এম সহিদ উল্লাহ।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড হেলাল চৌধুরী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি শেখ মনির হোসেন বাবুল, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ জিন্নাহ, চাঁদপুর জেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির সভাপতি সেলিম খান প্রমুখ।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন অঞ্চল ৬ এর সাধারণ সম্পাদক মাও: মোঃ আবদুর রহমান গাজী ও গীতা পাঠ করেন অঞ্চল ৮ এর সহ সভাপতি বিমল চৌধুরী।

আলোচনা সভার পূর্বে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণের পূর্বে কমিউনিটি পুলিশিং-ডে উপলক্ষে কেক কাটা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত সব কর্মসূচিতে কমিউনিটি পুলিশিং শহর ও সদর অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

একই রকম খবর