চাঁদপুরে চুরির অপবাদে যুবকের আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী তরপুরচন্ডি এলাকার জিটি রোডের সামু গাজীর বাড়ির শরীফ ছৈয়ালের ছেলে হাসান ছৈয়াল (১৮) কে ঘর থেকে মোবাইল ও মানি ব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে সকাল থাকে কয়েক দফা মার ধর করা হয়।

এ দুঃখে সে বড় বড় ভাইয়ের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্হল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মৃত হাসানের পিতা শরীফ ছৈয়াল ও জেঠা খোরশেদ ছৈয়াল জানান,তার কয়েক বছর ধরে সামু গাজীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করছে। মৃত হাসান পেশায় রাজমিস্ত্রির সহযোগি হিসাবে কাজ করতো। একই বাড়িতে ব্যাচেলার হিসাবে ভাড়া থাকেন
পলাশ নামের এক প্রাইভেটকার চালক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রাইভেটকার চালক পলাশের কক্ষ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরি হয়।

সেই অপবাদ চাপানো হয় হাসান ছৈয়াল উপর। তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে প্রথমে তাকে আম গাছ, খেজুর গাছের সাথে বেধে মোবাইল ও মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিতে পলাশ স্হানিয় যুবক স্বপন, জাহাঙ্গীর,আনোয়ার,মহসিন, কামাল, সজিবকে দিয়ে বেদম ভাবে মারধর করা হয়। সকাল ৬ টা থেকে বেলা পৌনে ৩ টা পর্যন্ত তাকে বেধে রেখে তার নির্যাতন করে।

এখানেই শেষ নয় তার পর তাকে বাড়ির সামনের রাস্তার ব্রিজের কাছে এনে আবারো মারধর করে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ১৫ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুরিশের অফিসে। সেখানে ও নাকি মারধর করা হয়। সব শেষ বাড়িতে এনে তার ছোট চাচা ইসমাইল ছৈয়ালের ঘরের লোকজনকে বাইরে বের করে তাকে আটকে রাখে।হাসান ছৈয়াল সেখানেই গামছা আর বেল্ট দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে আত্মহত্যা করে।

বিকালে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ কে অবগত করা হলে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্হলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আসিফ মহিউদ্দিন, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ,উপ পরিদর্শক শাহজাহান সহ পুরিশ কর্মকর্তারা। স্হানীয়রা দাবী করেন হাসানের উপর যারা নির্যাতন করেছে বা যারা তাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে তাদের কে আইনের আওয়াত যে আনা হয়।

একই রকম খবর