চাঁদপুরে নৌ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুর খবর রির্পোট : চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশের প্রজনন রক্ষা অভিযানের শুরুতেই মারমুখী হয়ে উঠেছে জেলেরা।

বিশেষ করে নৌ-পুলিশের উপর চড়াও হচ্ছে তারা।

নৌ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৫০ জন কে অজ্ঞতা আসামী করে মামলা দায়ের করেছে নৌ পুলিশ।
গত ২৪ ঘন্টায় চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং জেলে নৌকার ধাক্কায় স্পিড উল্টে একটি শর্টগান নদীতে হারিয়েছে।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সফরমালি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেরা ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই সময় নৌ পুলিশের নিয়মিত টহল সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। নৌ পুলিশের উপস্থিতির টের পেয়ে জেলেরা তাদের সাথে থাকা জালের ইটার তৈরী চাক্কি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় নায়ক হাসান মিয়া (৩৫) নৌ পুলিশের সদস্য গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে নিয়ে আসা হয় সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে।

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) হামলার ঘটনায় বেআইনী জনতাবদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে সরকারি কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রদান ও সরকারি কর্মচারীকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অপরাধে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৫০জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, চাঁদপুর সদরের আলু বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর নীলকমল এলাকায় সোমবার বিকেলে স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় তারা জেলেদের ৩টি নৌকা জব্দ করে। পরে মাছ ধরা অবস্থায় জেলেদের আটক করতে গেলে পিছন থেকে মাছ ধরার ট্রলার স্পিডবোটের ওপরে উঠিয়ে দেয়। এতে করে স্পিডবোটে থাকা ৪ পুলিশ সদস্য এবং চালক পানিতে নিমোজ্জিত হয়। তারা সকলে সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও কনস্টেবল বাশারের সাথে থাকা শর্টগান নদীতে হারিয়ে যায়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে আলু বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা কেউ গুরুতর আহত হয়নি। তবে শর্টগানটি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে এবং আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শর্টগান উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুজ্জামান বলেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে নৌ-পুলিশ খুবই তৎপর। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ সময় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশসহ যে কোন মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মওজুদ ও পরিহন নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড এবং উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

 

একই রকম খবর