চাঁদপুরে শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে ‘শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় শহরের জোড়পকুর পাড় সাহিত্য একাডেমি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আহ্বায়ক বশির আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল। প্রধান আলোচক ছিলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অমর চন্দ্র দাশ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আহ্বায়ক বশির আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপাদমস্তক একজন সাহিত্যপ্রেমি। তিনি শিল্প-সাহিত্যকে ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু যদি নজরুলকে এদেশে এনে নাগরীকত্ব না দিতেন তবে আমরা নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে পেতাম না। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বলেই আজকে আমাদের ভাষার স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা নয়াচিন গ্রন্থটি তাঁর অমর সৃষ্টি। বইটিতে সাহিত্যের যে ভাষা ও রস রয়েছে তা অতুলনীয়। তার লেখা কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থটিও একটি অনন্য দলিল। আমাদের মন ও মননে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ ও লালন করতে হবে।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে আমরা মাতৃভাায় যে সাহিত্য রচনা করছি, গান কবিতা লিখছি সে পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর। তিনি আমাদের একটি স্বাধীন মানচিত্র এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত নেতাই এসেছেন। কিন্তু কেউ আমাদের স্বাধীনতা দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই মুখে মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা বলি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করি না। বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের সাথে অন্য দল ও নেতাদের পার্থক্য হলো, বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। আর অন্যরা সবসময় বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিনত করতে চেয়েছিলো।

সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলছিলেন, তখন স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে। ১৫ আগস্টে, ১৭ আগস্ট আর ২১ আগস্ট- সব একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি আমাদের সবখানে ঘাপ্টি মেরে বসে আছে। এদের বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন শান্তের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আশিক বিন রহিমের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, মাহবুবুর রহমান সেলিম, আব্দুল্লাহিল কাফি, দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ এর সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান কিরণ,

দৈনিক প্রিয় চাঁদপুরের সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম, , বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল আলম মাসুম, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি শামীম আহমেদ, চাঁদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, কবিতা পাঠ করেন মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া। কবিতা আবৃত্তি করেন চাঁদপুর শিশু একাডেমির আবৃত্তি শিল্পীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, লেখক ও গংগঠক মুনিরা আক্তার, চিত্রশিল্পী সাধন সরকার, নাট্যজন আকরাম খান, দৈনিক শপথ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য কাদের পলাশ, জাহাঙ্গীর হোসেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি শওকত আলী, দৈনিক চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কেএম মাসুদ, চাঁদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধাণ সম্পাদক আব্দুল গনি, কবি ও গীতিকার পলাশ দে, দৈনিক সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি অমরেশ দত্ত জয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাহিত্য প্রেমীগণ।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মাহমুদন নবী মাসুমের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী দুটি ছবি সাহিত্য একাডেমীতে প্রদান করা হয়।

একই রকম খবর