১৫ হাজার কি.মি. হেঁটে যে বার্তা নিয়ে চাঁদপুরে এলেন ভারতীয় যুবক

চাঁদপুর খবর রির্পোট: চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘অল্প বয়সেই সে বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে কাজ করছে। এটি অন্যদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। বিষয়টি জানার পর তার থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

১৫ হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে বাংলাদেশে এসেছেন এক ভারতীয় যুবক।

নিজ দেশের ২৭টি রাজ্য ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশেরও কয়েকটি জেলা ঘুরে সম্প্রতি চাঁদপুরে আসেন মহারাষ্ট্রের নাগপুরের বাসিন্দা রোহান আগারওয়াল।

শহরের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। শিক্ষার্থী ছাড়াও কথা বলছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তার আলোচনার বিষয়বস্তু হলো প্লাস্টিকের ভয়াবহতা!

তার মতে, এই পৃথিবী শুধু মানুষের বসবাসের জন্য নয়। প্রাণী-উদ্ভিদেরও। তাই পরিবেশের বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত। প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে।

মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে এই যাত্রায় বিশ্বের ১৫টি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মাত্র ২০ বছর বয়সী রোহান। ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে গঙ্গার তীর থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন তিনি। ৮১০ দিন আগে যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি, চণ্ডীগড়, হিমাচল, উত্তরাখন্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি, কর্ণটক, কেরালা ও গোয়া হয়ে ভারতের মোট ২৭টি রাজ্য পরিভ্রমণ শেষে গত ৮ অক্টোবর ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকেন রোহান।

এরপর পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে ১০ নভেম্বর আসেন চাঁদপুরে। জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিকের ভয়াবহতা বোঝাতে চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক থেকে বাঁচতেই আমার এই যাত্রা। ভারত থেকে এসেছি বাংলাদেশে। চলতি পথে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। ডিসি, এসপি, মেয়র, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ আমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন।’

রোহান জানান, তিনি ভারতের গভর্নমেন্ট সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার পরিবার থাকে ভারতের নাগপুরে।

বাংলাদেশের পর মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, চীন, হংকং, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়াসহ আরও বেশ কিছু দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা তার।

তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই গেছি, সেখানকার স্কুল-কলেজেসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে প্লাস্টিকের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেছি। সবাইকে বলেছি, তাদের উচিত পরিবেশকে বাস্তব উপায়ে রক্ষা করা।

একই রকম খবর