চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারের এক শিক্ষার্থীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর গাড়ী চালক মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার (২৫) আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডের থানায় মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ শাহজাহান তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

শফিকুল ইসলাম হাওলাদার বড়গুনা জেলার আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আওতাধীন চাঁদপুর জেলার একমাত্র ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর গাড়ী চালক।

ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির পিতার মৃত্যুর পর বাবুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে থাকে। মেয়েটি বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। তারা এক ভাই ও এক বোন। তার মা একমাত্র ভাইকে নিয়ে পুরান বাজার এলাকায় বসবাস করেন এবং মানুষের বাসাবাড়িতে জ্বি এর কাজ করে সংসার চালান।

মেয়ের মা জানান, চাঁদপুরের গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি সোমবার নির্দিষ্ট সময়ে বা সকালে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীটি শহরের বাবুরহাটস্থ সরকারি শিশু পরিবারে কয়েক ঘন্টা অবস্থান করতো। ফলে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী থেকে শিশু পরিবারের থাকা শিক্ষার্থীর বই নিয়ে পড়ে, আবার লাইব্রেরীতে দিয়ে দিতো। এতে করে শিশু পরিবারের থাকা শিক্ষার্থীদের কিছুটা হলেও উপকারে আসতো। এই অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীটি যত সময় শিশু পরিবারে অবস্থান করত সেই সময়টুকু চালক শফিক শিশু পরিবারে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীতে থাকাতো। ফলে তার সাথে শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

সেই সুবাদে শফিক কয়েকদিন পূর্বে শিশু পরিবারের অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীসহ অনেক ছবি তুলেন। এক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেনীর মেয়েটির সাথে গাড়ী চালকের গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। ওই শিক্ষার্থীকে একদিন ভালো হোটেলে খাওয়ানোর প্রস্তাব দিয়ে শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার পালকি আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে। প্রথম দিনই সে ওই আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওই শিক্ষার্থী কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে চালক শফিক ভিডিও ধারণ করে এবং বিভিন্নভাবে ছবি তুলে রেখে দেয়।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর অনুরোধে প্রথম দিন তাকে বাবুরহাট শিশু পরিবারে নিয়ে পৌঁছে দেয়। কয়েকদিন পর শফিকুল পুনরায় বাবুরহাট শিশু পরিবারে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে পূর্বে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও দেখায় এবং বলে আবারো একই আবাসিক হোটেলে যাওয়ার জন্য। আর যদি সে না যায়, তাহলে তাঁর কাছে থাকা ভিডিও ও ছবি ভাইরাল করে দেয়া হবে। এই অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী নিরুপায় হয়ে তাঁর মাকে খবর দিয়ে শিশু পরিবারে এনে বলে সে আর শিশু পরিবার থাকবে না। যদি তার মা তাঁকে শিশু পরিবার থেকে না নেয়, তাহলে সে গাড়ির নীচে পড়ে আত্মহত্যা করবে।

মেয়ের এমন কথা শুনে শিক্ষার্থীর মা শিক্ষার্থীকে কেনো এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে, এই প্রশ্ন করলে পুনরায় সে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। তখন শিক্ষার্থীকে মারধর করে তাঁর মা। মারধরের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী নিরুপায় হয়ে মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। এই ঘটনা শুনে শিক্ষার্থীর মা কৌশলে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর চালক শফিককে ডেকে আনেন। শফিক ওই শিক্ষার্থীর ডাকে সাড়া দিয়ে বাবুরহাট বাজার এলাকায় আসে। এরপর শফিক বাবুরহাট বাজার এলাকায় শিক্ষার্থীর কাছাকাছি এসে ঘটনা টের পেয়ে দৌড়ে পাশবর্তী এক বাড়িতে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ওই বাড়ি থেকে তাকে আটক করে বাবুরহাট শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

পরে বাবুরহাট শিশু পরিবারের কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শিশু পরিবার থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়ী চালক শফিককে থানায় নিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, এ ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা মামলা করেছেন। আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

একই রকম খবর