জাতীয় শোক দিবসে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, যার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ, লাল সবুজের পতাকা। দেশ স্বাধীনের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন বিশ্ব আজ শোষক, আর শোষিত এ দু’ভাগে বিভক্ত। আমি শোষিতের পক্ষে। তখন তিনিই সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির লক্ষবস্তুতে পরিণত হন। সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিরা নিজেদের স্বার্থে তখন বেশ ক’জন জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতাকে দেশীয় সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও ষড়যন্ত্রকারীদের মাধ্যমে হত্যা করেন।

এর ধারাবাহিকতায় সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি ও একাত্তরের সকল পরাজিত শক্তি মিলে দেশীয় কিছু সেনা অফিসার ও কুশীলবদের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেন। বঙ্গবন্ধু শিশুপুত্র রাসেল ও ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বিদেশ থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি, একাত্তরের সকল পরাজিত শক্তি মিলে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা, পাটের গুদামে আগুন, ব্যাংক লুট সহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। আমদানিকৃত খাদ্যের জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে দেশে কৃত্রিম খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের অবস্থা তৈরি করে। মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অযোগ্য শাসক হিসেবে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে।

১৫ আগস্টের এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। যেমনিভাবে বৃটিশরা দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী, সেনাপ্রধান, মীরজাফরা চরিত্র হননসহ মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে অযোগ্য শাসক হিসেবে চিহ্নিত করে। ষড়যন্ত্রমূলক পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে নবাবকে পরাজিত করে। পরবর্তীতে বন্দি নবাবকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেনাপ্রধান মীর জাফরকে বৃটিশরা নবাব বানিয়ে ক্ষমতায় বসায়। বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তারই ঘনিষ্ট সহচর খন্দকার মোশতাককে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও খুনীরা ক্ষমতায় বসায়। খন্দকার মোশতাকের সাথে তখন অন্যতম কুশীলব ছিলেন তৎকালীন উপ সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে খুনিরা তার সাথে দেখা করে তাদের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে সামরিক আইন জারি, খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে নিনজে ক্ষমতা দখল করেন। খুনীদের পুরস্কৃত করেন। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় জিয়া ১৫ আগস্টের কুশীলবদে মধ্যে অন্যতম।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বহু বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে দীর্ঘদিন পর দেশে এসে আওয়ামীলীগের হাল ধরেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিচার কাজ শুরু করেন। কয়েকজন খুনিকে আটক করেন। ২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় বিচার কাজ শুরু করেন। খুনীদের ফাঁসির আদেশ হয়। কয়েকজন খুনির ফাঁসি কার্যকর করেন। এখনো কয়েকজন বিদেশ পলাতক আছে। তাদের ধরে এনে রায় কার্যকর করা হবে।

তিনি গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে উপলক্ষে আয়োজিত ্আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান ,চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত । আরো বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সিনিয়র সদস্য প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, এ.এইচ.এম আহসান উল্যাহ, মির্জা জাকির, লক্ষন চন্দ্র সূত্রধর, ফরিদগঞ্জ বিআরডিবি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল, চঁাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী, আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমির প্রধান শিক্ষক গোফরান হোসেন, প্রেসক্লাবরে সিনিয়র সদস্য ফনীভূষণ চন্দ্র, সদস্য মিজান লিটন, সদস্য ও বাংলাদেশে ফিসিং বোর্ট মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক শাহআলম মল্লিক প্রমুখ। আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ ইলিয়াছ, গীতা পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লক্ষন চন্দ্র সূত্রধর।

একই রকম খবর