মতলবে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক ইয়াছিন বরখাস্ত

সমির ভট্টাচার্য্যঃ মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ‘আশ্বিনপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. ইয়াছিন মিয়াজীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রোববার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাময়িক বরখাস্তের ওই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৫ অক্টোবর বুধবার সিদ্ধান্তটির চিঠি ওই শিক্ষকের কাছে পৌঁছানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান ওই শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করেন। গত ২৭ আগস্ট ওই তিন ছাত্রী ওই শিক্ষকের কাছে কোচিং করতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হয়।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগের পর তাদের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বিষয়টির তদন্ত করে তিন সদস্যের কমিটি। পরে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেয় ওই তদন্ত কমিটি । ইউএনও ওই প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেন জেলা প্রশাসকের কাছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় জেলা প্রশাসক কয়েক দিন আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেন। এর প্রেক্ষিতে গত রোববার পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাসুদ পাটোয়ারী।

তিনি আরও বলেন, সাময়িক বরখাস্তের চিঠি ওই শিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ ইয়াছিন মিয়াজী বলেন, আমি সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এর বেশী আর কিছু বলার নেই। ইউএনওর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট ছুটির পর ওই শিক্ষক কোচিং শেষে নবম ও দশম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে পাশের একটি কক্ষে আলাদা ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তাদের শ্লীলতাহানি করেন। ওই দিন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা ঘটনাটির বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

ঘটনাটি তদন্তে ওই দিন ইউএনও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলীকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করেন। গত ২৯ আগস্ট অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম খান বলেন, তদন্তে ওই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ উঠে, তার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক শিক্ষকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেন।

একই রকম খবর