মতলবে নায়েরগাঁও উবির প্রধান শিক্ষক আলমগীরকে শোকজ

সমির ভট্টাচার্য্য : মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নায়েরগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁকে ওই নোটিস দেন। বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কাগজপত্র সময়মতো বোর্ডে জমা না দেওয়া, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ও ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ রেখে যোগাযোগ-

বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে তাঁকে ওই নোটিস দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম খান বলেন, গত ২৪ অক্টোবর সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন হয়। নির্বাচনটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান। এতে মো. শফিকুল ইসলাম ৭ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন।

মো. আবদুর রহিম খান আরও বলেন, নির্বাচনটির পর থেকে গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে লাপাত্তা হন । এবং তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনও বন্ধ থাকে। বিধি বর্হিভূতভাবে বিদ্যালয়েও অনুপস্থিত থাকেন কয়েক দিন। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে নির্বাচনটির কাগজপত্র গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি।

এ সকল বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি মো.শফিকুল ইসলাম তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটির কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শাও নোটিস দেন। দ্রুততম সময়ে নোটিসটির জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়েছে। নোটিসের উত্তর সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।

বিদ্যালয়টির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসব কাজ করেছেন। কাউকে কিছু না বলে বিদ্যালয়েও টানা কয়েক দিন অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কারণ দর্শাও নোটিস পেয়েছি। শিগগির এর জবাব দেবো । নির্বাচনটির পরে বাড়ী ফেরার সময় তাঁর কাছে থাকা সকল কাগজপত্র মতলব পৌরসভার সামনে থেকে বিদুৎহীন রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নেন। এর পর আমি থানায় যাই ডাইরি করতে কিন্তু ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর করনে সেটা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ী আসলে আমি অসুস্থ হয়ে পরি ।

এ জন্য সময়মতো বোর্ডে সেগুলো জমা দেননি। গতকাল শুক্রবার এসে এ মর্মে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য কয়েক দিন বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি মুঠোফোনও সচল ছিলনা ।

 

একই রকম খবর