মতলব অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতে অভিযোগ !

সমির ভট্টাচার্য্য : মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ড. এম সামছুল হক মডেল কলেজ নামে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাকরিতে নিয়োগ, চাকরি বৈধকরণ ও এমপিওভুক্তির কথা বলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষক-কর্মচারীর পক্ষে প্রভাষক তাজমিরা আক্তার ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ।

তাজমিরা আক্তার লিখিত অভিযোগপত্রটিতেক উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে তিনি ওই কলেজে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক পদে আবেদন করেন। পদটিতে তিনি ছাড়াও আরও দুজন আবেদন করেন। তাঁকে নিয়োগ দেওয়া, তাঁর চাকরি বৈধকরণ ও পরে এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে অর্ডার) কথা বলে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারী তাঁর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেন। নিয়োগবোর্ড তাঁকে ওই পদে নির্বাচিত করে নিয়োগ দেয়।

চাকরিতে যোগদানের পর সেখানে নিয়মিত পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম করছেন। কিন্তু গত প্রায় সাত বছর ধরে তাঁর চাকরি স্থায়ী করেননি ওই অধ্যক্ষ। এমপিওভুক্তও করা হয়নি তাঁকে। কলেজ থেকে তাঁকে বেতন-ভাতাও দিচ্ছেন না। অধ্যক্ষের কাছে দেওয়া ওই চার লাখ টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো তাঁকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ২০১৯ সালে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কাছে এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়রিও করেন তিনি।

তাজমিরা আক্তার আরও বলেন, তিনি ছাড়াও তাঁর কলেজের আরও ২২ শিক্ষক-কর্মচারীকে কলেজটিতে চাকরি দেওয়া, চাকরি বৈধকরণ ও এমপিওভুক্তির কথা বলে ওই অধ্যক্ষ তাঁদের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। নামে মাত্র তাঁদের চাকরি দিলেও চাকরি বৈধকরণ ও এমপিওভুক্ত না করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন।

একটি পদে তিন-চারজনের কাছ থেকেও বিভিন্ন হারে টাকা নেন। কোনো শিক্ষক-কর্মচারীকেই কলেজ থেকে বেতন দিচ্ছেন না। বেতনভাতা না পেয়ে তিনিসহ সবাই চরম অর্থসংকটে রয়েছেন। কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে অনুরোধ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি মহল তাঁর ও কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ইউএনও ফাহমিদা হক বলেন, ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না যাচাই করবেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরে পদক্ষেপ নেবেন।

একই রকম খবর