মতলব উত্তরে পাউবো’র উদ্ধারকৃত জমি আবারও বেদখল, ভবন নির্মাণ

মতলব উত্তর প্রতিনিধি :চাঁদপুরের মতলব মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সেচখাল ও নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ সংলগ্ন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ৬০ কিলোমিটার এলাকা হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চলতি বছরের ২৬ মে।

উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে উদমদী পাম্প হাউজ সংলগ্ন এলাকা থেকে জনতা বাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুছ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্যাহ্ উপস্থিত থেকে অর্ধ শতাধিক শ্রমিকসহ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উদ্ধার শেষে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অভিযানে প্রায় ৫০কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই উদ্ধারকৃত জমিতে আবারও চলছে ফিল্ম স্টাইলে দখল ও ভবন নির্মাণের মহোৎসব চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে যায়, মতলব উত্তরের জনতা বাজার তৎসংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি সম্পত্তিতে একের পর এক অবৈধ ভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় চিহ্নিত প্রভাবশালী দখলদাররা। ধনাগোদা নদীর তীরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের সম্পত্তি দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও নিরব রয়েছেন পাউবোর কর্মকর্তারা। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয়দের দাবি, স্থাপনা নির্মাণের সময় অভিযোগ দেয়া হলে শুধুমাত্র নোটিশ দিয়েই দায় এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্টরা। দখলদারেরা সেই নোটিশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না কখনো। পাউবোর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এরইমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকশ স্থাপনা।

দখলদার অলিউল্ল্যাহ দেওয়ান পাউবোর একোয়ারভূক্ত সম্পত্তিতে দোকানঘর নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার এলাকার আশপাশে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তারা ওইসব স্থাপনায় বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছেন। আমিও ব্যবসা করার জন্য দোকানঘর নির্মাণ করছি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে উচ্ছেদের পূর্বে অবৈধ দখলে থাকা ২ হাজার ৩শ’ ৫০ জনকে নোটিশ ও স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে বালু ব্যবসা পরিচালনকারী ১শ’ ২৫ জনকে নোটিশ করা হয়। দখলদাররা নিজ গতিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে পাকা ভবন তুলছে, সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি সদ্য বিষয়টি জানতে পেরেছি, দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই রকম খবর