মতলব দক্ষিনে ৭৫০০ শ’মানুষের বসবাস এ একবাড়িতেই

শওকত আলী : এক সময়ের মতলব দক্ষিন এলাকার অত্যান্ত নামজাদা প্রতাপশালী শম্বু চন্দ্র জমিদার বাড়িটি এখন অত্যান্ত ঘনবসতির বাড়ি হিসেবে ব্যাপক সাড়া লাভ করেছে। এখন মতলব দক্ষিনের এ জমিদার বাড়িটি দালাল বাড়ি হিসেবে রূপ লাখ করেছে।

এক সময়ে এ জমিদার বাড়িতে জমিদার পরিবার ও তাদের নিরাপত্তা কর্মীসহ শতাধিক মানুষের বসবাস ছিল। কালের পরীবর্তনে ও জমিদার প্রথাবাতিল ও জমিদারদের পরিবারের মানুষেরা দেশে বাহিরে পার্শ্ববতী ভারতসহ বিভিন্নস্থানে চলে যাওয়া ও অন্যত্র বসবাস করার ফলে জমিদার বাড়িটির চিত্র এখন বিলপ্তি হয়ে গেছে।

ঐতিহ্যবাহী শম্বু জমিদার বাড়িটিতে অন্যবংশীয় বিশেষ করে এ বাড়িটিতে দাস বংশের মানুষের বেশী বসবাস হওয়ায় এ বাড়িটি এখন দাস বাড়ি। তবু এ এলাকায় এ বাড়িটি দালাল বাড়ি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে দীর্ঘ বহু বছর যাবত এ এলাকায় এ বাড়িটি এখন দালাল বাড়ি। তবে এক সময় এ এলাকাটি যেমন জমিদাররা নিয়ন্ত্রন করতো, এখন এ এলাকাটি নিয়ন্ত্রন করছেন দালাল বাড়ির মানূষেরা। এখানে বংশপরীক্রমায় মানুষ তাদের বংশ বিস্তার করতে করতে এখানে এ দালাল বাড়িতে বর্তমানে ৭ হাজার ৫০০ শ’মানুষের বসবাস এ একটি একবাড়িতেই।

এ বাড়ির মানুষের এক সময় জীবন নির্বাহের উপায় ছিল মাছ ব্যবসা বা দালালি। কালের পরিবর্তনে আধুনিকতার কারনে ও ডিজিটাল পৃথিবীর সাথে পাল্লাদিয়ে এ বাড়ির অনেক পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে এখন দেশের বিভিন্নস্থানে উচ্চপদে আসিন হয়ে আছেন। এ বাড়ির একজন সরকারী কর্মকতা দালাল বাড়ির সন্তান গীতা রানী দাসের সাথে পরিচয় কালে তার কাছ থেকে জানা যায়,তিনি ঢাকায় সরকারের সম্জা কল্যান বিভাগের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাড়ে ৭ হাজার মানুষের বসবাস নিয়ে অত্যান্ত ঘনবসতির বাড়ি হচ্ছে ,চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিন উপজেলার দালাল বাড়ি। এখানের এক সময় এ এলাকার জমিদাররা এ বাড়িটিকে জমিদারদের বাড়ি হিসেবে নির্মান করে এখানে তারা বসবাস করতো।
নিজেদের প্রয়োজনে এখানকার শম্বু চন্দ্র জমিদার বাড়িটি নিজের মত করে বিশাল এলাকা নিয়ে নির্মান করেছিলেন বলে এলাকার প্রবীনদের সাথে আলাপকালে তারা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করেছেন,ঢাকায় বসবাসরত এ দালাল বাড়ির প্রবীন বস্ত্র ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র।

তার বাবা মায়া ধর দাস জীবদসায় তিনি এ বাড়ির অভিভাবক হিসেবে ছিলেন এবং তিনি তার জীবনে বেঁচে থাকতে তিনিই প্রায় ১১বার এ এলাকার নির্বাচিত মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার ছেলে গৌতম চন্দ্র এ এলাকার নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বাড়ির কাহিনী শুনতে আশ্চার্য জনক লাগলেও আসলে বাস্তবে তা’যে সত্য। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেহারণ দালাল বাড়ির অবস্থান রয়েছে। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ঐতিহ্যবাহী এ দালাল বাড়িতে ৭০০ পরিবার বসবাস করছে। সবমিলে এসব পরিবারের মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজারের মত বলে জানা গেল।

সংশিষ্ট অফিসসূত্র জানান, মতলব দক্ষিন উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ হাজার ৩০০ জন। র সবাই এই মেহারন দালাল বাড়িতে বসবাস করেছে।

এ এলাকা ফসলি জমিতে ঘেরা দালাল বাড়িটির মধ্যে জমিদারদের দোতলা দুটি পুরনো ভবন আছে। এর একটি ১৩৩৫ এবং অপরটি ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়েছিল।

এ বাড়িতে মূলত তখনকার সময়ের জমিদারদের কর্মীরা বসবাস করতেন। কালক্রমে এখানে গড়ে উঠেছে জেলে,কৃষক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বসবাস করছেন। বাড়ির ভেতরের ছোট পরিসরের রাস্তা রয়েছে। যা’ সিমেন্টের ঢালাই করা রয়েছে। এ বাড়িতে নতুন অপরিচিত যে কেউ এ বাড়িতে প্রবেশ করলে বের হওয়ার রাস্তাই হারিয়ে ফেলতে হবে। সঠিক ভাবে বাড়ি থেকে বাহির হতে পারবেনা।

মতলব উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউপি সূত্রে জানা যায়, এ দালাল বাড়ির মানুষের সন্তানদের শিক্ষা অর্জনে জন্য বাড়িটিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি মন্দির এবং প্রায় ৬০টি টিউবওয়েল আছে বিশুদ্ব পানি পান করার জন্য। এখানে বসবাসকৃত মানুষের বংশ পরম্পরায় এ বাড়ির বাসিন্দাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখানে বর্তমানে সাড়ে ৭ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে ।

একই রকম খবর