মধুরোড স্টেশনে এখন থেকে বিক্রি করা হবে সাগরিকা ট্রেনের টিকিট

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট এখন থেকে পাওয়া যাবে মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনে।

বেসরকারি কোম্পানি মেসার্স এন এল ট্রেডিং এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত চাঁদপুর-চট্টগ্রামে চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট মধুরোড স্টেশনে আলাদা বুথে বিক্রি হবে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার সময় টিকিট বিক্রির শুভ উদ্বোধন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী।

মধুরোড রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মোঃ হাবিব উল্যাহ খানের সভাপতিত্বে টিকিট বিক্রির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল খালেক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনের সাবেক স্টেশন মাষ্টার মোঃ শাহাজান মিয়া, সাবেক বিমান কর্মকর্তা মোঃ আলী আশরাফ, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আবু তাহের তালুকদার বিএসসি, রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক খোকন রায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর রেল খাতে ব্যাপক কাজ হয়েছে। পাল্টে গেছে রেলের উন্নয়ন চিত্র। রেল সেবা যাত্রীদের কাছে করে দিয়েছেন আরো সহজ। বর্তমানে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নয়, ঘরে বসেই কাটতে পারেন ট্রেনের টিকিট।

তারা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চাঁদপুর-৩ আসনে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি এমপি। তাঁর নিজ এলাকা এই রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনটি প্রথম শ্রেনীর একটি স্টেশনে রূপান্তর করা হয়েছে। তারই সুবাদে এ এলাকার মানুষজন আজ সুবিধা ভোগ করছে।

২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী থেকে বেসরকারি খাতে যাওয়া সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে চলাচল করতে এ এলাকার যাত্রীরা চাঁদপুর কিংবা বিভিন্ন স্টেশন থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হতো। এখন থেকে আর অন্য কোথাও গিয়ে টিকেট নিতে হবে না।

মধুরোড রেল স্টেশন থেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। তবে এর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন রামপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল খালেক তালুকদার। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এসময় চাঁদপুর-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচলকারী উপস্থিত কয়েকজন যাত্রী অতিথিবৃন্দের কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। টিকিট বিক্রির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ সহ যাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর-লাকসাম-চট্টগ্রামের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার রেলপথের ৩৪টি স্টেশনের টিকিট এখন থেকে মধুরোড রেলওয়ে স্টেশন থেকে আলাদা কাউন্টারে একজন বেসরকারি সুপারভাইজার/কর্মী দ্বারা নিয়মিত বিক্রি করা হবে। ট্রেনটি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৭.৩০ মিনিটে ছেড়ে মধুরোড পৌঁছায় দুপুর ১২টায় এবং চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চাঁদপুর থেকে দুপুর ২.৩০মিনিটে ছেড়ে মধুরোড পৌঁছায় দুপুর ৩টায়।

চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ৮৫টাকা। ট্রেনটি এ পথে যাত্রা বিরতি করবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জংশন, পাহাড়তলী, কৈবল্যধাম, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারী, কুমিরা, বাড়বকুন্ড, সীতাকুন্ড, বারৈয়াঢালা, নিজামপুর কলেজ, বারতাকিয়া, মীরসরাই, মাস্তাননগর, চিনকী আস্তানা, মুহুরীগঞ্জ, ফাজিলপুর, কালিদহ, ফেনী রেলওয়ে জংশন, শর্শদি, গুণবতী, হাসানপুর, নাঙ্গলকোট, নাওটি, লাকসাম রেলওয়ে জংশন, চিতোষী রোড, শাহরাস্তি, মেহের, ওয়ারুক, হাজীগঞ্জ, বলাখাল, মৈশাদী, চাঁদপুর কোর্ট ও চাঁদপুর বড় স্টেশন।

একই রকম খবর