হঠাৎ লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করায় চাঁদপুরে যাত্রীরা বিপাকে

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে হঠাৎ লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করায় চাঁদপুরের যাত্রীরা পড়েছে মারাত্বক বিপাকে। তারা লঞ্চের ভাড়া কমানোর জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর-ঢাকা যাতায়ত করতে পূর্বে ১৫০টাকা দিতাম। এখন হঠাৎ লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করায় ৫০ টাকা বৃদ্বি করে ২০০টাকা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্বব না। আমাদের আয় কম আমরা ৫০টাকা বৃদ্বি করায় আমাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। যাত্রীরা জানান আমরা এখন বৃদ্বিকৃত ভাড়া পাব কোথায় দিব কোথায় থেকে।

গত এক সপ্তাহের বেশী জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবার থেকে হঠাৎ করে লঞ্চের ভাড়া ৩০ ভাগ বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছে লঞ্চের সাধারণ যাত্রীরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লঞ্চঘাট চাঁদপুর। বিলাস বহুল লঞ্চগুলোতে প্রতিদিন চাঁদপুরসহ আশাপাশের বেশ কয়েক জেলার মানুষ এই ঘাট দিয়ে ঢাকা-চাঁদপুর চলাচল করেন। বিশেষ করে ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়া যাত্রীদেরও এক মাত্র আরামদায়ক রুট হচ্ছে এ চাঁদপুর রুট।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। প্রথম ১শ’ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির ফলে এখন ২.৩০টাকার সাথে .৭০ টাকা যোগ হয়ে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৩টাকা। চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে পূর্বে ডেকের ভাড়া ছিলো ১৫০টাকা। আজ থেকে ৩০ শতাংশ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

প্রতিদিন চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে ২৪টি, চাঁদপুর-নারায়নগঞ্জের মধ্যে ১৪টি এবং দক্ষিণাঞ্চল ও শরীয়তপুরের মধ্যে ৮টি লঞ্চ চলাচল করে। এসব এলাকার লোকজন ভাড়া বৃদ্ধির কোন ধরণের নোটিশ কিংবা ঘোষণা পায়নি।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর থেকে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়। তবে ঘাটে গিয়ে দেখা যায় লঞ্চগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে অনেক যাত্রীই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চঘাটে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমান। এটি ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যায় বিকেল পৌঁনে ৪টায়। এই লঞ্চের যাত্রী রাবেয়া বেগম ও সোহানা বলেন, আমরা নীচ তলার ডেকের যাত্রী। লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে জানিনা। অতিরিক্ত টাকাও নিয়ে আসেনি। লঞ্চে এসে দেখি ১৫০ টাকা ডেকের ভাড়া ২০০টাকা। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম পড়লাম।

আরেক যাত্রী খুচরা ফল ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, জরুরি কাজে ঢাকা যেতে হচ্ছে। লঞ্চে এসে দেখি ভাড়া বেশী। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে যেন ভাড়া না ভাড়ানো হয়। কারণ নিরাপদ বাহন হিসেবে আমরা বেশী যাতায়াত করি লঞ্চের মাধ্যমে ।

এমভি সোনার তরী ও বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চের কেরানিদের (করণিক) সাথে কথা বললে তারা জানান, সরকারিভাবে ৩০ভাগ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আমরা সেভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছি। ঢেকের ভাড়া ২০০টাকা, প্রথম শ্রেনী এসি চেয়ার ৩৫০ টাকা, বিজনেস ক্লাস এসি চেয়ার ৪৫০ টাকা এবং নীচ তলার চেয়ার ২৭০ টাকা। সরকারি ভাড়া আরো বেশী আছে। কিন্তু আমরা কিছু কম নিচ্ছি। সরকার যে ভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্বি করেছে তাতে লঞ্চ মালিক ভাড়া বাড়ানো ছাড়া সম্বব না বিধায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

একই রকম খবর