হাজীগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে নারী কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলন

চাঁদপুর খবর রির্পোট : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আসম মাহবুব উল আলম লিপন ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তার এবং তার পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

আনিত লিখিত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে তিনি মিনু আক্তার বলেন, আমি ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত কাউন্সিলর। আমি গত ৩১ তারিখে আমার ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট করেছিলাম, অনেকে সেই পোস্ট নিয়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি আমি যা বলছি সব সত্য, আমাদের হাজীগঞ্জ বাসি অনেকে জানেন সন্ধার পরে পৌরসভার মেয়র মদ নেশা নিয়ে ব্যস্থ থাকেন। এমনকি প্রায় সময় দিনের বেলাতেও পৌরসভা কার্যালয়ে নিজ কক্ষে তিনি নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকেন যাহা হাজীগঞ্জ পৌরসবাসী জানেন।

তিনি বলেন, আমি এই নেশাগ্রস্ত মেয়রের হাত থেকে যৌন হেনস্থা এবং আমার ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে আজকে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার ।

গত ০৩/০৮/২০১২ইং তারিখে আমি পৌরসভায় গেলে মেয়র তার পৌরসভার পার্সোনাল রুমে আমাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। আমি কৌশলে আমার ইজ্জত রক্ষা করে বের হয়ে এসেছি। এই ঘটনা কেন্দ্র করে সব কাউন্সিলরগণ নিয়ে বৈঠক পর্যন্ত হয়েছে। তারপরও ২২/০৮/১-২২ইং তারিখে ৭নং ওয়ার্ড মনির কাজীকে দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে মেয়র। বিভিন্ন সময় দেওয়া ওনার কুপ্রস্তাবে আমি রাজি না হওয়ায় উনি আমাকে পৌরসভার কোন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন না এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয় তার ফলশ্রুতিতে তিনি আমাকে পৌরসভার মাসিক তিনটির ভিতরে দুইটি মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও হাজিরায় স্বাক্ষর করতে দেয়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ৩১/১০/২০২২ তারিখে আমি মাসিক মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে দেননি আমি যে মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছি তা পৌরসভার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ মিলবে, এমনকি ওনার আস্তাভাজন বিভিন্ন কাউন্সিলর দিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি আমি যদি ওনার কথা মতো না চলি তাহলে আমাকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করবেন। উনি যে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ইজ্জত হানির চেষ্টা করেছেন আমার সহকারী কাউন্সিলর ভাই ও বোন তারা সব কিছু জানতেন।

এই নিয়ে আমার সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। আজ তারা এ সকল বিষয় নিয়ে মুখ খুলছেন না, আজ তারা ক্ষনিকের লোভ লালসায় পৌরসভার মাধ্যমে অসাধু উপায়ে মেয়রের ছত্রছায়া বিভিন্নভাবে টাকা রোজগার বা উপার্জন করছেন এবং উনার ক্ষমতার কারণে আমার সত্য কথাটাকেও তারা মিথ্যা বলে প্রচার করছেন আমাকে খারাপ বলে অপবাদ দিচ্ছেন, আর যদি এমন কোন ঘটনা আপনাদের মা বোনের সাথে হতো, তাহলে আপনারা কি করতেন, ক্ষমতা কোনদিন চিরস্থায়ী থাকে না আজ উনার ক্ষমতার কারণে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাজিয়েছেন এর জন্য একদিন আপনারা আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আমাকে এই নেশাখোর মদখোর, হাত থেকে রক্ষা করুন, আপনাদের কাছে আমি নিরাপত্তা চাই আপনারা সঠিক ভাবে তদন্ত করিলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে।

সবদিক থেকে যখন আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাই আমি নিরুপায় হয়ে গত ৩১/১০/২০২২ইং তারিখে আমার নিজ নামিও ফেসবুক আইডিতে একটি লাইভে সব কিছু পৌরসভা বাসিন্দার সামনে তুলে ধরি। ০১/১১/২০১২ইং রাতে মেয়রের কিছু সংখ্যা লোক এসে আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে যান। এরপর ০২/১১/২০১২ইং তারিখে মেয়র তার সঙ্গীদের দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে আমার সম্মানহীন করার চেষ্টা করে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিনু আক্তার বলেন, কাউন্সিলররা আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, আমি যাতে আর বাড়াবাড়ি না করি। কিন্তু মেয়র ক্ষমা চায়নি। আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি কোর্টে অনেকবার গিয়েছি কিন্তু কোন আইনজীবী মামলা নেয়নি। আমি হাজীগঞ্জ থানায় গিয়েছি, সেখানকার দারোগা নাজিম আমাকে বলেছে, আপনার মামলা থানায় নিবে না। তারা যে মিছিল করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মিনু আক্তারের স্বামী নূরে আলম। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, মির্জা জাকির, এএইচএম আহসান উল্লাহ,প্রথম আলোর চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন,সাংবাদিক তালহা জুবায়ের।

 

একই রকম খবর