২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী ; চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেছেন ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন।

আজ রক্তাক্ত ২১ আগস্ট। দেশের ইতিহাসে নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৮তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এইদিনে সভ্য জগতের অকল্পনীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় রাজধানীর ২৩ নং বঙ্গবন্ধুর এভিনিউ আওয়ামীলীগ কার্যালয় আওয়ামীলীগের এক রাজনৈতিক সমাবেশে। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় চালানো হয় এই গ্রেনেড হামলা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে কথা বলতে গিয়ে সন্ত্রাসের শিকার হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও ওই হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান এবং ৫’ শতাধিক লোক আহত হয়।

২১ আগস্ট উপলক্ষে দেওয়া একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের এ দিনে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা এবং আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা।’

আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বিরোধী চক্র এখনও নানাভাবে সোচ্চার আছে। এই অপশক্তির যে কোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন এই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় চাঁদপুরের বুকে দুটি সন্তানও আমরা হারিয়েছি, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কুদ্দুস পাটোয়ারী ও মতলব উত্তর যুবলীগ কর্মী আতিকসহ আরো চাঁদপুরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এই আগস্ট মাস আসলে আমাদের মন ভরা ক্লান্ত হয়।

তিনি আশা করেন, সকল আইনি বিধি-বিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায় কার্যকর হবে। এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে এবং বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমত ও জনগণের দোয়ায় আমার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন। তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। তাঁদের অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে দেহে স্প্রিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন।’

আমাদের সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি ২১ আগস্টের সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

একই রকম খবর