অগ্রসরতার আরেক নাম শেখ হাসিনা

‘‘এ পৃথিবী অবাক চোখে তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুরে সব খাাঁক, হয় তবু মাথা নোয়াবার নয়।’’

একটি নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি। যে বাংলাদেশ সকল প্রতিকুলতা পার হয়ে এগিয়ে গেছে, এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীলতা পথপরিক্রমা পেরিয়ে এখন উন্নত রাষ্ট্রের পথে বাংলাদেশ। যার কান্ডারী জননেত্রী ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

এ যাবতকালের বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকার প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সমুদ্র জয় করেছি, ছিটমহল সমস্যার সমধান হয়েছে, সকল বির্তকের অবসান ঘটিয়ে আমাদের নিজের খরচে পদ্মা সেতু নির্মান হচ্ছে।

যাতায়াত ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, উল্লেখযোগ্য হারে ফ্লাই ওভার নির্মানের ফলে এখন যানজট নিয়ন্ত্রনে। এক অঞ্চল থেকে সকল অঞ্চলে খুব সহজে পণ্য নিয়ে যাতায়াত করা যায়। ফলে ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক প্রসারতা পেয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকা, চার লেন রাস্তা নির্মান কাজ শেষ হয়েছে।

পোশাক ও ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশে তৈরী ঔষধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বিশ্বের ৩ নম্বর ঔষধ রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমাদের দেশের তৈরী পোষাক বিদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। বিনিয়োগের সবচেয়ে অনুকুল পরিবেশ এখন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব আর এদেশে নেই। বিশে^র বিভিন্ন দেশ এখন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এ সফলতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সফলতা। কৃষিতে বাংলাদেশ ব্যাপক ভাবে সফল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন বাংলাদেশ। মৌসুমী ফসল, ফল ও শাকসব্জি এখন সারা বছর পাওয়া যায়। কৃষকদের প্রশিক্ষনের ফলে এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন আর বাংলার মানুষ না খেয়ে মরে না। এমন কি চাল এবং মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ। বাংলাদেশের আম এখন ইউরোপে রপ্তানী হচ্ছে। কৃষক ভাইদের জন্য সহজ কিস্তিতে কৃষিঋণ দেয়া হচ্ছে। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানী করে বাংলাদেশ ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বাংলাদেশের চা বিশে^ জনপ্রিয় এবং চা উৎপাদনে বিশে^ চতুর্থ পর্যায়ে স্থান কওে নিয়েছে।

মহাকাশ জয় করেছি আমরা। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। ৫,০০০ এর বেশী ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার ৮,২০০ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগন ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্থান কওে নিয়েছে।

সব শ্রেনীর মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সহজলভ্য। তার ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিমান বন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মানের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষুদ্র ঋন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত। দারিদ্র বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প এবং ভিক্ষুকদের ঘর নির্মান করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা যেন স্কুলে যায় তার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বছরের প্রথম দিনেই বিনা মূল্যে ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষকদের বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে ৩১,১৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সেই সাথে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে জাতীয় করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর এক যুগান্তকারী ঘটনা। সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে এদেশ সফরে আশার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সৌদি আরবের বাদশাহ এবং যুবরাজ বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার প্রসংশা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যেন এই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই অব্যাহত থাকে।

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধারাবাহিকতা কামনা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই সব ধর্মের মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে বাস করছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় আছে।

আমাদের সরকারের পরবর্তী মিশন দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা দেশ কে ক্ষুধামুক্ত করেছি। বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন।

মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্ব ও দক্ষতার সাথে তিঁনি দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁর হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবতার শেষ পর্যায়ে, একাদশ সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বাংলাদেশের মানুষের ভোটে এবং ভালবাসায় আবার টানা তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে দেশ হবে আরো অগ্রসর ও আরো উন্নত।

আজকের বাংলাদেশ সফলতা ও সমৃিদ্ধর বাংলাদেশ যা বিশ^ব্যাপী প্রশংসিত অন্যদিকে অকুতোভয় গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রভাবশালী নারী নেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন এবং সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

পাকিস্তানের দোসর ও স্বাধীনতা বিরোধীরা চক্র বঙ্গবন্ধু কে হত্যা করে এ দেশকে মেরুদণ্ড হীন করে তুলতে চেয়েছিল। দলটির উপর রাষ্ট্রীয সন্ত্রাস চলে ২১ বছর। নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয় । ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এমনকি ১৯৭৫ সালের পর ৬ বছর পার হলেও তদানিন্তন ক্ষমতাসীন শাসকরা

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রবিবার ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র, হুমকি উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।

ছয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে এলেও তাঁকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হল না। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর এক যুগের বেশি সময় রীতিমত রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। শাসকগোষ্ঠীর পদে পদে হয়রানি, নিপীড়ন তাঁকে দমাতে পারেনি।

তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দক্ষতায় পঁচাত্তরের পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এর আগে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ আবারও সরকার পরিচালনায় আসে। ক্ষমতায় থেকেও তিনি ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।

অনেক বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে তাকে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, এই পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর ১৯ বার মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়েছে। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গুলি বর্ষন ও গ্রেনেড হামলা চালায়।

জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি তাঁকে হত্যার জন্য প্রথম চেষ্টা চালায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই। এদিন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় আওয়ামি লীগের সমাবেশ ছিল। জঙ্গিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশস্থলের খুব কাছে শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখে। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আবারও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিলেটের নির্বাচনী জনসভায় বোমা হামলার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

কিন্তু ওই বোমা নাড়াচাড়া করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটলে দুই জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই বছরে ৩০ মে তারিখে খুলনায় রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অনুষ্ঠানের তিনদিন আগে রূপসা নদী থেকে ১৫ জঙ্গিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা করা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। অল্পের জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। এই হামলায় আহত হয়েছেন শত শত নেতা-কর্মী।

ঘটনার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে ঐ সময় বিএনপি সরকার মামলা নেয়নি। উল্টো জজ মিয়া নাটক মঞ্চস্থ করে। বিএনপি চেয়েছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাক। কিন্তু মিথ্যা কখনো সত্যকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে না। সত্য একদিন ঠিকই বেরিয়ে আসবে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সত্য আজ জাতির সামনে উন্মোচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র আমাদের ভবিষ্যতের বাংলার কর্নধার সজীব ওয়াজেদ জয়কে ও হত্যার পরিকল্পরা করেছিল এই দেশোদ্রোহী বিএনপি জামাত। ষড়যন্ত্রকারীরা জানে শেখ হাসিনা কে হত্যা মানে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও গনতন্ত্র কে হত্যা করা। তাই আপনারা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শেখ হাসিনার পাশে থাকুন।

কোন ষড়যন্ত্রকারীরা আ্ইনের ফাক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেনা যার প্রমান গত ১০ অক্টোবর । এদিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড

হামলা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে তৎকালিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সাথে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৪ বছর পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হল। এখন এ আদেশের দ্রæত বাস্তবায়ন দেখতে চায় দেশবাসী। কারণ দোষীরা শাস্তি পেলে কলঙ্কমুক্ত হবে বাংলাদেশ।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বাংলার আপামর জনগনের দোয়া আছে, ভালোবাসা আছে। মহান আল্লাহ যখন কাউকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাঁকে মারার সাধ্য কার আছে!

শেখ হাসিনা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণকেও দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে। তাঁকে ভোট দিয়ে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে শেখ হাসিনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়েই অব্যহত থাকে সেই জন্য তার পাশে থাকুন।

অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান;

সম্মানীত সদস্য,

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।

একই রকম খবর

Leave a Comment