আইনে রয়েছে জেলা সদরেই স্থাপিত হবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাঁধাগ্রস্ত করার জন্যে নানাহ চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর এমন অপচেষ্টায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে জেলার সচেতন মহল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পর প্রাথমিক স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর খসড়া আইন পাশ হয় মন্ত্রী সভায়। পরর্তীতে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয় জাতীয় সংসদে। প্রকাশিত হয়েছে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট।

আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয় চাঁদপুর সদর উপজেলায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়েল উচ্চ পর্যায়ের একাধিক টিমের পর্যবেক্ষণ, মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতে ভৌগলিকসহ নানা কারনে ৩ জেলা থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় সুবিধাজনক স্থান হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে খাসজমিসহ ৬২ একর প্রায় খালি জায়গায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি অধিগ্রণে নিয়মানুয়ায়ী ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণ করতে হলে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবিত এলাকায় স্থাপনের জন্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্যে ফাইল অনুমোদন প্রদান করেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ভূমি মন্ত্রণালয় দ্রুত সময়ে জমি অধিগ্রহণের জন্যে নির্দেশনাও প্রদান করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত স্থানে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণসহ অন্যান্য কার্যক্রম চুড়ান্তভাবে শুরু করার উদ্যোগ নেয়ার সময়ে শুরু হয়েছে অপপ্রচার আর বাঁধাগ্রস্ত করার নানাহ চক্রান্ত। কেউ কেউ দাবি তুলছেন এ উপজেলায়, কেউবা দাবি তুলছেন ওই উপজেলায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক।

অথচ প্রস্তাবিত স্থানে প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদার প্রেক্ষিতে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ভূমি মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেন। কারণ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০-এর বিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে চাঁদপুর সদর উপজেলার মধ্যে। আইনের ১৬ নং ধারার ৩-এর ১ ধারায় স্পষ্ট উল্লে¬খ রয়েছে : চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ঈযধহফঢ়ঁৎ ঝপরবহপব ধহফ ঞবপযহড়ষড়মু টহরাবৎংরঃু) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।

২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সংসদে বিল পাসের প্রস্তাব করেন চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর) আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সংসদে বিল পাস হয়। এরআগে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় খসড়া আইনটি পাস হয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে।

২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিধ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছিম আখতারকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন একাডেমি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়, ঠিক সে সময়ে স্থান পরিবর্তনের ঠুকনো অজুহাত এবং দাবি নিয়ে জেলার সচেতন মহল চরমভাবে ক্ষুব্ধ।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের গাছতলা এলাকায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্যে স্থান চুড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হলেও একটি কুচক্রি মহল চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের স্থান পরিবর্তন করার নানাহ দাবি তোলে। এসব অপপ্রচার এবং দাবির প্রেক্ষিতে গেলো ৪ বছরেও দৃশ্যমান হয়নি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ। ফলে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ন্যায় লাল ফিতায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেও বন্দী করার জন্যে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে তোয়াক্কা না করে, নানা অপপ্রচার ও চক্রান্ত শুরু করেছে এবং নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি বাঁধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

একই রকম খবর