চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : “নারীর কথা শুনবে বিশ্ব কমলা রঙে নতুন দৃশ্য” এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান পক্ষ উদ্যাপন-২০১৮ উপলক্ষে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবছরের মূল প্রতিপাদ্যের পাশাপাশি যৌনহয়রানি, বাল্য বিয়ে, সাইবারবুলিং এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দিয়ে এই প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলা হলরুমে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিইপি)’র মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব (মেজনিন) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চাঁদপুরের এর সহায়তায় নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান পক্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ বির্নিমানে ভাল আদর্শ মা চাই কিন্তু কেউ কন্যা সন্তান চাই না। কন্যা সন্তান না হলে ভাল মা আসবে কোথা থেকে। তাই এখনই সময় আমাদের কন্যা সন্তানদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য এবং সমাজ থেকে সকল ধরণের নির্যাতন নির্মূলকরণে সকলকে সম্মিলিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি জেলা ব্যবস্থাপক কালাচাঁদ দাস অসিত এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিলা ইয়াসমীন সূচনা।

এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার সাজিয়া আফরিন, সূর্য্যরে হাসি ক্লিনিক ম্যানেজার বেবী সাহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি ফারুক আহম্মেদ।

এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের বিশাল ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশী নারী সমাজকে বসিয়ে রাখলে চলবে না তাদের উৎপাদনমূখী ও কৃষি কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং ক্ষুধামূক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা আজ আশার আলো দেখতে পাচ্ছি যে এখন মেয়েরা জেগে উঠছে এবং তারা আগের থেকে অনেক সচেতন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক কর্মকান্ডে তারা এখন সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে তৃনমূলের মেয়েরা এখনো পিছিয়ে আছে তাদেরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে একযোগে কাজ করতে হবে।

এছাড়াও ব্র্যাকেরপক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আরএম (মাইক্রোফিন্যান্স) মো. শাফায়েতুর রহমান, সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক কালাচাঁদ দাস, পপুলার থিয়েটার সেক্টর স্পেশালিস্ট সঞ্জয় কুমার ঠাকুর, জুনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট মো. আফসার উদ্দীন, এফও মো. নুরু ইসলাম, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি এফও মো. তফিজুল ইসলাম। মেলায় মোট পচঁটি স্টল অংশগ্রহণ করেন। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, নবরূপ, ব্লস্টার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) এবং ব্র্যাক। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবাসমূহ মেলার স্টলে প্রদর্শন করেন। দিনব্যাপী অসংখ্য অংশগ্রহনকারী উক্ত স্টল পরিদর্শন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পল্লীসমাজ সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, নারী নেত্রী, এনজিও প্রতিনিধি, ব্র্যাক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিএবং ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ প্রায় পাচশত অংশগ্রহনকারী উপস্থিত ছিলেন।

এরপূর্বে সবাই দাঁড়িয়ে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুলের তোড়া প্রদান করে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মানীত অতিথিদের আগমনের পুর্বে এবং স্বন্ধ্যায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্র্যাকের ডকুমেন্টরী ও ডকুড্রামা প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানের ব্যানারে স্বাক্ষর করে এ প্রচারাভিয়ানের শুভ সূচনা করেন। তারা প্রত্যেকে ব্যানারে নিজ নিজ অঙ্গীকার লিখে তার নিচে স্বাক্ষর করেন এবং অন্যদের স্বাক্ষর করতে উদ্বুদ্ধ করেন। মঞ্চের বাইরে মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা শুভ সূচনা ঘোষনা করেন।

আলোচনাপর্ব শেষে সকল অংশগ্রহণকারী দাঁড়িয়ে নারী নির্যাতন নির্মুলকরণে শপথ পাঠ করেন। শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা। যৌনহয়রানি ও বাল্যবিয়েকে না বলি শীর্ষক লালকার্ড প্রদর্শন করা হয়। শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার বিচারক ছিলেন চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংগঠক অজিত দত্ত। কুইজ পর্ব পরিচালনা করেন সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি সেক্টর স্পেশালিস্ট দেবাশীষ হালদার। অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন ও বেবী সাহা এ পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিচারকদ্বয় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার ও কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। সবশেষে সচেতনতামূলক গণনাটক পরিবেশিত হয়।

উল্লেখ্য যে প্রতিবছরের মতো এবছরও ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির উদ্যোগে (সিইপি) ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানপক্ষ উদ্যাপন করা হয়েছে। মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব (মেজনিন) প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী এ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান পক্ষ পালনের তাৎপর্য তুলে ধরা, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিংএবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে কার্যকর প্লাটফর্মকে শক্তিশালী করা এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষ ও ছেলেদের সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সমাজে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।

একই রকম খবর

Leave a Comment