কচুয়ায় প্রতিবন্ধীর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় হামলা, আহত-২

স্টাফ রিপোর্টারঃ কচুয়ায় অসহায় প্রতিবন্ধি শরীফুল ইসলাম এর ভিটামাটি আত্মসাৎ করার জন্য বারবার হামলা করে যাচ্ছে তারই বড় ভাই এর স্ত্রী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের লিলাম বাড়ির মৃত. ক্বারী আইয়ুব আলীর ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী মোঃ শরিফুল ইসলাম এর পৈত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারই আপন বড় ভাই মোঃ মোশাররফ হোসেন তার স্ত্রী ও বখাটে সন্তানরা।

জানা যায়, মোশাররফ হোসেন একজন সৌদি আরব প্রবাসী। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে রয়েছেন। মাঝে মাঝে দেশে আসেন। নিজ বাড়িতে তিনি ১তলা একটি বাড়ি করেছেন। তার অবর্তমানে সবকিছু দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী শাহিনা বেগম। আর শরীফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি। কচুয়া উপজেলা সমাজ সেবা কতৃক রযেছে প্রতিবন্ধী কার্ডও।

শরীফুল ইসলাম শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বোনেরা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি না নিয়ে শরীফ কে দিয়ে দেয়। তবে বড় ভাই মোশাররফ হোসেন ছোট ভাই শরীফ এর পৈত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ভরাটিয়া সন্ত্রাসী এনে বারংবার শরিফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কে মাইরধোর করে যাচ্ছে।

৩রা জুলাই সকাল ৭ঃ৩০ ঘটিকায় মোশাররফের নির্দেশে তার স্ত্রী, সন্তানরা জোর পূর্বক শরীফের নিজ দখলীয় বসতঘর ভেঙ্গে বেদখল করার পায়তারা করে। শরীফ ও তার স্ত্রী এর প্রতিবাদ করায় তার ভাবি শাহিনা বেগম, কাজের মেয়ে বিলকিছ আক্তার, বখাটে ছেলে রাকিব হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, প্রতিবন্ধি শরীফুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর উপর নিমম হামলা চালায়।

এসময় তারা শরীফ ও তার স্ত্রীর বুকে পিঠে কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত ও কিল ঘুষি দিয়ে মারাত্বক জখম করে। স্থানীয়রা শরীফ ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কতর্ব্যরত ডাক্তার তাদের ভর্তির নির্দেশ দেন। কতর্ব্যরত ডাক্তার জানান শরীফের স্ত্রীর মারাত্মক আঘাত পাওয়াতে অতিরিক্ত বুমির ফলে অবস্থা গুরুতর।

প্রতিবন্ধি শরিফুল ইসলাম জানান, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি। আমার একটা হাত নেই। আমি অসহায় ও গরীব। হাত না থাকায় কাজও করতে পারি না। আমরা দুই ভাই দুই বোন। আমি প্রতিবন্ধি হওয়ায় আমার দুই বোন তাদের সম্পত্তি আমাকে দিয়ে দিয়েছে। তবে আমার বড় ভাই ও ভাবি ছেনি মনিরসহ সন্ত্রাসবাহিনীকে টাকা দিয়ে আমাকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য চেস্টা করছে।সকালে তারা আমার ভিটামাটি ও বসত ঘর দখল করার চেষ্টা করলে আমি বাধা দিলে তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মেরে জঘম করে। আমাকে মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে জেলে রেখে আমার ভিটামাটি আত্মসাৎ করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে শরীফের বড় দু’ বোন মোঠফোনে বলেন আমার ভাই মোশারফ টাকার গরমে আমাদের প্রতিবন্ধী ছোট ভাই টাকে মানুষ মনে করে না। মোশাররফ আমাদের বাবা বৃদ্ধকালীন সময়ে চিকিৎসার নাম করে ১৮ শতাংশ জমি বাবাকে দিয়ে বিক্রি করে সমস্ত টাকা নিজেই আত্মসাৎ করে নেয়। তাই আমারা ২ বোন ও আমাদের মা জীবিত অবস্থায় অসহায় প্রতিবন্ধি ভাই টা কে আমাদের অংশ লিখে দেই। আমাদের সহজ সরল প্রতিবন্ধী ভাইটার সাথে মোশাররফ ও তার স্ত্রী যা করতেছে তার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট শাস্তি চাই।

ভাগিনা শাহাদাত হোসাইন বলেন আমার বড় মামা মোশাররফ তার স্ত্রী ও ভারাটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমার সহজ সরল প্রতিবন্ধী মামার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য যা করতেছে তা সম্পূর্ণ অন্যায়।আমরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলেও বড় মামা ও মামী আমাদের কাউকেই পাত্তা দেয় না। আমরা বড় মামা ও মামির শাস্তি চাই।

বড় ভাইয়ের স্ত্রী শাহিনা বেগম জানান, শরীফ প্রতিবন্ধি এটাই তার সার্টিফিকেট। সে আমাদের জায়গা থেকে সরে যাক। সে কতটুকু জমির মালিক তা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের অংশ ছেড়ে দিয়ে সে পেছনে চলে গেলেইতো হয়।

উল্লেখ্য যে এই বিষয়ে শরীফ ২২ মে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পূর্বে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে জোর পূর্বে গাছ কেটে ফেলায় মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে আশরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগও দায়ের করেরন শরীফুল ইসলাম।

একই রকম খবর