কচুয়ার গুতপুরের ডুবাই প্রবাসী সুমনের উপর হামলা

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার গুতপুর পাঠান বাড়ীর ডুবাই প্রবাসী মো: সুমন (৩০), পিতা-মনু মিয়া পাঠান কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় আদালতে ৫জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে।

গত ২৫জুলাই চাঁদপুর জেলার কচুয়া বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মো: সুমন (৩০) বাদী হয়ে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কচুয়া সমাজসেবা অফিসারকে তদন্তপৃর্বক প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন ।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কচুয়া সমাজসেবা অফিসার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নানা তালবাহানা করছে । তদন্ত কার্যক্রমই করছে না । আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ।

মামলা বিবরণ থেকে জানা যায় গত ০১জুলাই-২০২২ ইং কচুৃয়া থানাধীন বড়দৈল সাকিনস্থ গিয়াস উদ্দিন শিকারীর দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর ভিকটিম মোঃ সুমন কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।

মামলায় আসামীগণ হলেন ০১। কাইয়ুম (৩২), পিতা-মৃত সিরাজ মিয়া, ২। রনি (২৪), পিতা-ইকবাল হোসেন, ৩। রাসেল (৩২), পিতা-মো: মোন্তা মেস্ত্রী, ৪। মো: সাদ্দামর(৩৫), পিতা-মনির হোসেন, ৫। নাঈম হোসেন (২২), পিতা-আ: হালিম সর্বসাং-বড়দৈল, থানা-কচুৃয়া, জেলা-চাঁদপুরসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন।

মামলার সাক্ষীগণ হলেন ১। মো: নাছির (৩০), পিতা-মোছলেম বেপারী ২। আ: কাদির (৩২), পিতা মৃত আবুল কাশেম, ৩। ইব্রাহিম (৩৫), পিতা-মৃত আবুল কাশেম, ৪। নাছিমা বেগম (৪০), স্বামী-মো: মোস্তাক, ৫। মো: মুক্তার হোসেন (৩০), পিতা-আ: ছামাদ পাঠান, ৬। মনু মিয়া পাঠান (৭০), পিতা-মৃত মহরম আলী পাঠান, সর্ব সাং-গুতপুর ৭। আ: রশিদ (৫০), পিতা-মৃত হাছন আলী, ৮। রুহুল আমিন (৩৫), পিতা-ফজলু শিকারী, উভয় সাং-বড়দৈল, সর্বথানা-কচুয়া, জেলা-চাঁদপুর, ৮। ডা: মো: সাজিদ হাসান জিহাদ, এমবিবিএস, বিসিএস স্বা¯্য’, রেনেসা মেডিকেল সেন্টার, কচুয়া, চাঁদপুর।

মামলার বিবরন থেকে জানা যায় আসামীদের অত্যাচার সমাজের মানুষ অতিষ্ট। আসামীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করিতে পারছে না। আসামীদের বিরুদ্ধে জিআর মোকদ্দমাসহ অন্যান্য মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। আসামীগণ প্রকৃতপক্ষে চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক বটে। ফরিয়াদী একজন ডুবাই প্রবাসী।

ফরিয়াদী বিগত ২০১০ সালে প্রবাসে (ডুবাই) যাইয়া নিজে পরিশ্রম করে টাকা পয়সা রোজগার করিয়া গুতপুর সাকিনে ৫১শতক জমি খরিদ করে তথায় ২বৎসর পূৃৃর্ব হতে একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

ফরিয়াদী প্রবাসে থাকা কালীন সময়ে ফরিয়াদীর পিতার নিকট হতে ফরিয়াদীর মোবাইল ফোন নম্বর নিয়া আসামীগণ ফরিয়াদীর নিকট থেকে সময়ে অসময়ে চাঁদার টাকা দাবী করিয়া আসিতে থাকে। ফরিয়াদীর বিল্ডিং তৈরির কাজ চলাকালীন আসামীগণকে ৬০হাজার টাকা চাঁদা না দিলে ফরিয়াদীর বিল্ডিং এর কাজ সমাধা করতে পারবেনা বলিয়া সাফ জানাইয়া দেয়।

ফরিয়াদীর পিতা-মাতা উক্ত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করিলে আসামীগণ ফরিয়াদীর পিতা মাতা ও বাদীর স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করিলে ফরিয়াদীর পিতা মাতা জীবনের ভয়ে বিগত ০১/০১/২০২২ ইং তারিখে আসামীদের দাবীকৃত চাঁদা ৬০হাজার টাকা দিয়া বিল্ডিং এর কাজ সম্পন্ন করে।

ফরিয়াদী গত ২৪/৬/২০২২তারিখে ডুবাই প্রবাস হতে বাড়ীতে আসে। ফরিয়াদী বাংলাদেশে আসার পর আসামীগণ ফরিয়াদীর নিকট আরও ২,০০,০০০/- টাকা চাঁদা দাবী করে এবং চাঁদার দাবীতে হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে। বর্তমানে ফরিয়াদী নির্ভয়ে বাড়ী হইতে বাহির হইতে পারছেনা।

ফরিয়াদী বিগত ০১/০৭/২০২২ইং তারিখ রাত ৭:৪৫ ঘটিকার সময় তাহার ঘরে অবস্থান করাকালে আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে পরস্পর যোগসাজস করিয়া ১নং আসামীর মাধ্যমে ফরিয়াদীকে মোবাইল ফোন করিয়া জরুরী কথা আছে বলে ফরিয়াদীকে ঘটনাস্থলে দেখা করার জন্য বলে।ফরিয়াদী সরল বিশ্বাসে ঘটনার তারিখ সময় ও স্থানে রাত ৮:৪৫ ঘটিকার সময় বড়দৈল সকিনস্থ গিয়াস উদ্দিন শিকারীর দোকানে সামনে পাকা রাস্তার উপরে আসামীগণ ফরিয়াদীকে সংগঠনের খরচের চাঁদা ২,০০,০০০/-টাকা দাবী করে।

ফরিয়াদী উক্ত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করিলে ফরিয়াদীর উপর আসামীগণ উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হইয়া হাতে লাঠি সোটা দেশীয় সহ অতর্কিত ভাবে আক্রমন করে। তাহাতে ফরিয়াদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানসহ ফরিয়াদীর হাতে, পায়ে,রানে, সিনায়, বুকে, পিঠে নিলা ফুলা জখম করে। ১ ও ২নং আসামী ফরিয়াদীর গলায় থাকা ১ভরি চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন অনুমান মূল্য ৯৫,০০০/-টাকা হইবে নিয়া যায় ৩/৪নং আসামীগণ ফরিয়াদীর হাতে থাকা একটি এন্ডোয়েড এ-৭২ স্যামস্যং মোবাইল সেট ফোন নিয়া যায়। যাহার মূল্য ৫০,০০০/-টাকা। ৫নং আসামী ফরিয়াদীর অন্ডকোষে চাপিয়া ধরিয়া জীবনে খুন করার চেষ্টা করে ফরিয়াদীর ডাক চিৎকারে ফরিয়াদীর জেঠাত ভাই ৫নং সাক্ষী আগাইয়া আসিলে ১নং আসামী তাহাকে মারধর করিয়া তাহার ডান চোখ আঙ্গুল দিয়া উঠাইয়া ফেলার চেষ্টা করে।

অত:পর অন্যান্য সাক্ষীগণ আগাইয়া আসিয়া ফরিয়াদী ও ৫নং সাক্ষীকে। আসামীগণ কবল হতে উদ্ধার করিয়া স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে। অবশেষে পরের দিন ফরিয়াদী ও ৫নং সাক্ষীর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি দেখা দিলে দ্রুত কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়া চিকিৎসা গ্রহন করে।

পরবর্তীতে ২/৭/২০২২ ইং তারিখে আসামীগণের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা করিতে গেলে থানায় মামলা করিতে গেলে থানা কর্তৃক পক্ষ মামলার অভিযোগের যাবতীয় কাগজপত্র রাখিয়া মামলা রুজু না করিয়া বিভিন্ন নেতার বরাদ দিয়া মামলা রুজু করতে অনিহা প্রকাশ করে। ফরিয়াদী নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল।

মামলার বিবরনীতে আরো উল্লেখ করা হয়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে অত্র মোকদ্দমাটি দন্ড বিধির ৩৮৬/৩৮৫/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় আমলে নিয়া আসামীগণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি অনুরোধ করেন।

একই রকম খবর