কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওর স্বেচ্ছাচরিতা চরমে !

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার সোহেল রানার স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি সরকারি নির্ধারিত নিয়মনীতিকে কোনো তোয়াক্কাই করছেন না। অভিযোগ রয়েছে তিনি হাসপাতালে রোগী না দেখে তার বাসায় ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত রোগী দেখেন।

এতে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যেমনি তেমনি হাসপাতালের ভেতরে তৈরি হয়েছে বিশৃংখলা। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সূত্রধরে পূর্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও সোহেল রানার বরাদ্দকৃত চেম্বার বেশিরভাগ সময় থাকে তালাবদ্ধ। তিনি রোগী দেখায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজ বাসা ও প্রাইভেট ক্লিনিকে।

সাধারণ মানুষ হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অবশ্য তার নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে ওসব রোগীদের বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন অথবা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে। জানা যায়, ওই দালাল চক্র রোগী নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে ডাঃ সোহেল রানাকে ফোন করেন।

তিনি দ্রুত ছুটে যান এবং নির্ধারিত ক্লিনিকে রোগী দেখেন। এতে ক্লিনিক মালিক পক্ষের যেমনি লাভ তেমনি পকেট ভর্তি হয় সোহেল রানারও। তার ক্লিনিক ও বাসায় রোগীর যোগান দেওয়া এবং এই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতে তিনি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় একটি দালাল চক্র। যারা তাকে সব সময় আশ্রয় দিয়ে রাখে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে এসব কাজের জন্য তাকে শোকজ করা হলেও তিনি পরোয়া করেননি। তার অনিয়মের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরএমওর বাসায় অপেক্ষাকারী রোগীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসক ভিজিটের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নেন। গ্রামের হত দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তারদের ফি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় বহন করতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যায়। কোনমতে ডাক্তারের টাকা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার খরচ বহন করার পর টাকার অভাবে কেউ কেউ ঔষধ কিনতে পারে না।

ডাক্তাররা অফিস সময়ে হাসপাতালের চেম্বারে ও বাসায় বসেই রোগীদের নিকট থেকে প্রকাশ্যেই ফি নিচ্ছে যা প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের নিয়মে পরিণত হয়েছে।

আবার অনেক ডাক্তার দিনের পর দিন হাসপাতালে না এসে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ও নিজস্ব চেম্বার খুলে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গর্ভবতী মহিলা রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে তাদেরকে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন খোদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। এতে করে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের যোগসাজসে সিজারিয়ান রোগীদের নিকট থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ক যন্ত্র থাকলেও ডাক্তাররা কমিশনের ভিত্তিতে ক্লিনিকে কাজ করার জন্য রোগীদের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

সরেজমিনে আরো দেখা যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পরিবেশ একেবারেই নোংরা, রোগীদের বিছানাপত্র, টয়লেট অপরিস্কার, গোসল খানা, ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক বাল্ব না থাকা, বেসিনগুলোতে ও হাসপাতালের দেয়ালে ময়লা আবর্জনায় ভরপুর হয়ে আছে। দরজা ও জানালা ভেঙ্গে চৌচির হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ না করায় কর্মচারীদের কোয়ার্টারগুলোর কয়েকটির জরাজীর্ন অবস্থা। কোনো কোনো কোয়ার্টার বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়া সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মচারীরা বসবাস করছেন। রোগী দেখার অনিয়ম বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও সোহেল রানা জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট।

শোকজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মানুষ মাত্রই কিছু ভুল থাকে। বাসায় অপেক্ষমাণ রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগীরা কষ্ট করে আসে দূর দূরান্ত থেকে। তাই তারা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি তাদের নিষেধ করেছি। ডিউটির সময় না আসার জন্য। রোগী অপেক্ষা করলেও আমি ডিউটি শেষে তাদের দেখি।

এবিষয়ে জানে চাইলে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহ উদ্দীন মাহ্মুদ জানান, হাসপাতালে আরএমও সোহেল রানার বিষয়ে অনেকের কাছ থেকে অভিযোগ শুনেছি এবং তাকে কয়েকবার মৌখিকভাবে সতর্কও করেছি। তাতেও কোন কাজ না হলে তাকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়।

তিনি কারো কথাই শুনেন না। এখন বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর ব্যবস্থা করছি। উক্ত বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, আরএমওর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে এর বিরুদ্ধে পূর্বেও শোকজ করা হয়েছিল। আবারও নতুন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লিখিতভাবে জানালে আমি সেই প্রক্রিয়া গ্রহণ করব।

একই রকম খবর