গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক চাঁদপুরের কৃতি সন্তান কাজী মাহবুব

চাঁদপুর খবর রির্পোট : দেশ শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী বজলুল হকের তৃতীয় পুত্র চাঁদপুর জেলার কৃতি সন্তান কাজী মাহবুবুল আলম।

৬ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন। এর পূর্বে তিনি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজী মাহবুবুল আলম ২০০৫ সালের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ তম ব্যাচে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়া ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালে তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৭ পযর্ন্ত সাল পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যথাক্রমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়াচর উপজেলায় এবং লক্ষীপুর জেলাযর রামগঞ্জ উপজেলায় এবং চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ সালে “একটি বাড়ি একটি খামার” বর্তমান (আমার বাড়ি আমার খামার) কর্মসূচিতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন।

কাজী মাহবুবুল আলম ২০১৭ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এখানে কর্মরত অবস্থায় ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগের বিষয়ে থিম সং রচনা করেন। ২০১৮ সালে উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে যোগদান করেন।

২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম-শতবার্ষিকী জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত দায়িত্ব পালন কালে তিনি বঙ্গবন্ধুর উপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি স্মারক গ্রন্থের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কাজী মাহবুবুল আলম চাকরি জীবনের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উপলক্ষে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড,চীন, জাপান স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি সফর করেন।

কাজী মাহবুবুল আলম ১৯৭৫ সালে ২ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকা চতুর্থ স্থান লাভ করেন। ১৯৯২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড বিভাগের ৮২৪ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান প্রাপ্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু (দৈনিক খবর ১০ অক্টোবর ১৯৯২) যেটি তার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনার প্রতি অবিচল আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

কাজী মাহবুবুল আলমের পিতা কাজী বজলুল হক আমৃত্যু হাজিগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি চাঁদপুর জেলার একজন বরেণ্য নিবেদিত প্রাণ শিক্ষাবিদ হিসেবে সর্ব মহলে সমাদৃত ছিলেন। শিক্ষকতায় তার নিষ্ঠা, সততা ও অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হয়ে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট স্বর্ণপদক ও সনদপত্র গ্রহণ করেন। তার মাতা বেগম তফুরুন নেছা একজন আদর্শ গৃহিনী ছিলেন। তার বড় ভাই কাজী আনোয়ারুল হক হেলাল চাঁদপুর জেলার বৃহত্তর হাজিগঞ্জ(হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৮৫ সাল থেকে ১০৮৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মেজ ভাই ডাক্তার কাজী মোস্তফা সারোয়ার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চাকরি থেকে অবসরে যান। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ চাঁদপুর জেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। তার একমাত্র বোন তানজিয়া ফেরদৌস সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা এর ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কাজী মাহাবুবুল আলম ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা মিতু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

 

একই রকম খবর