গ্রাহকের নামে ঋণ উঠিয়ে আত্মসাৎ : ফিল্ড অফিসারকে অবরুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার আশিক এক হোটেল ব্যবসায়ীর স্ত্রীর নামে ঋণ উঠিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঋণ না নিয়েও দীর্ঘ দুই বছর যাবত ঋণ পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে হোটেল ব্যবসায়ীকে।

অবশেষে অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার আশিক কে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে ধরে অবরুদ্ধ করে এর সমাধান দেওয়ার জন্য বলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিনা চৌরাস্তা হানিফা নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর স্ত্রীর নামে ঋণ উঠিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করে।

দীর্ঘ তিন ঘন্টা যাবত অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে সেই হোটেল ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী কোন ধরনের ঋণ নেয়নি ও তাদের ঋণ ফিল্ড অফিসার আশিক নিজেই পরিশোধ করে তাদের কাগজ প্রদান করেন।

ঘটনাটি রফাদফা হওয়ার পর অবশেষে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সেই অফিসার আশিককে সেখান থেকে ছেড়ে দেয় ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে হানিফা নামে হোটেল ব্যবসায়ী জানান, ২ বছর পূর্বে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার আশিক এর কাছে ৫০ হাজার টাকা লোন চাই। সে লোন দিতে পারবেনা বললে সেখান থেকে চলে আসি। তবে সেই ফিল্ড অফিসার আশিক আমার স্ত্রীর নামে ঋণ উঠিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করার পর দীর্ঘদিন যাবৎ ঘা ঢাকা দেয়। তার পরিবর্তে তাফাজ্জল নামে আরেক ফিল্ড অফিসার এসে ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। ঋণ নেয়নি বললেও সে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে পরে অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার আশিককে তার মুঠোফোনে জানালে সে আজেবাজে কথা বলতে থাকে।

দীর্ঘ এক বছর পর তাকে হানারচর ইউনিয়নে হরিনা চৌরাস্তায় দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে তালবানা শুরু করে। এছাড়াও এলাকার বেশ কিছু লোক জনের নামে ঋণ উঠিয়ে সেটা নিজে আত্মসাৎ করেছে এরকম অনেক ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ সকল অসাধু কর্মকর্তারা মানুষদের ধোকা দিয়ে ঋণ উঠিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করেছে।
এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার আশিক জানান, হোটেল ব্যবসায়ী হানিফা ঋণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করলেও তার স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে। কিন্তু সে সেই টাকা না দেওয়ার কারণে ঋণের টাকা নিজের কাছেই ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তার সমস্যা সমাধান করা হয়নি। তবে তার ঋণের টাকা নিজেই পরিশোধ করে তার কাগজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি খামার একটি প্রকল্পের শাখা ব্যবস্থাপক ফারজানা আক্তার জানান, ঋনের টাকা নিয়ে যে জটিলতা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে। সেই হোটেল ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর বর্তমানে কোন ঋণ নেই। তবে ফিল্ড অফিসার সাথে যে সমস্যাটা হয়েছে তা আমরা দেখব। কারো যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

একই রকম খবর