চাঁদপুরের কৃতী সন্তান দেশের সর্বোচ্চ ১৯ বার সেরা করদাতা হলেন কাউছ মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের কৃতী সন্তান হাজী মো. কাউছ মিয়া ২০২০-২১ করবর্ষে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে সমগ্র বাংলাদেশের ১ম সর্বোচ্চ করদাতার ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন।

২৪ নভেম্বর,২০২১ ঢাকা অফিসার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিশেষ অতিথি এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মোঃ জসিম উদ্দিন ও অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিম হাজী মোঃ কাউছ মিয়ার হাতে এবারের দেশ সেরা করদাতার ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা তুলে দেন। দেশের প্রবীন বব্যবসায়ি ও দানবীর হাজী মোঃ কাউছ মিয়া এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ১৯ বার শীর্ষ করদাতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

এছাড়া মুজিববর্ষে দেশের অগণিত সব বাঘা বাঘা ব্যবসায়ীদের পেছনে ফেলে একক দেশ সেরা করাদাতা নির্বাচিত হন তিনি।

২০২১ সালের ৫ই মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ মুজিববর্ষের সেরা করদাতা হিসেবে তাকে নির্বাচিত করে। আর এ সম্মাননা শুধু তিনি একাই পান।আর সে জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাকে সম্মাননা প্রদান করে।

১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১ নম্বর করদাতা হয়েছিলেন চাঁদপুরের গর্বিত সন্তান কাউছ মিয়া।

১৯৯৮ সাল থেকে তিনি দেশের সর্বোচ্চ করদাতার একজন।এই নিয়ে তিনি টানা ১৯ বার দেশ সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়ে অন্যন্য রেকর্ড গড়েন।যা বাংলাদেশের আর কোন ব্যবসায়ি কাউছ মিয়ার পর্যায় ধারাবাহিক এতবার সেরা করদাতার রেকর্ড গড়তে পারেনি । প্রতিবারই শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল সবার উপরে।

হাজী মোঃ কাউছ মিয়া মুজিব বর্ষ ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১মসহ ঊনিশবার সেরা করদাতা নির্বাচিত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিমকে এবং দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দেশের সেরা আয়করপ্রদানকারী হাজী মোঃ কাউছ মিয়া ৯২ বছরেও প্রতিদিন অফিস করেন।নিজেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি তদারক করেন।
জর্দা ব্যবসা ছাড়াও আগে থেকেই তার বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।যার কিছু ব্যবসা বয়সের কারনে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন, আবার কিছু ব্যবসা রেখেও দিয়েছেন।

১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট কাউছ মিয়া চাঁদপুর সদর রাজরাজেশ্বরে জম্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা মরহুম হাজী আব্বাস আলী মিয়া ও মাতা মরহুমা হাজী মোসাম্মৎ ফাতেমা খাতুন (জমিদার কন্যা)।

তখনকার সময় ভারতবর্ষের ত্রিপুরা ডিস্ট্রিক ছিল পূর্বে আগরতলা ও পশ্চিমে কলকাতা পর্যন্ত।

তিনি যে বাড়িতে জম্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন আমলের সামুগাদী চরবাহাদুর গ্রামে কাউছ মিয়ার বাবার শুধু বাড়িটিই ছিলো ৮৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে।আর তাদের শত শত বিঘা কৃষিজমিতো ছিলই। তাদের বাড়ি হাজী বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল।

৮ নানা ছিলেন জমিদার।জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হবার পর ১৯৫৬ সালে সরকার প্রত্যেক জমিদারকে ১’শ একর করে জমি বুজিয়ে দেয়।
কাউছ মিয়ার বড় বাবা নানার পিতা আজগর দেওয়ান।তিনি ছিলেন ১৭০০ সালের প্রতাপশালী জমিদার। তার ছিল ৭ ছেলে ১ মেয়ে।
৯২ বছরে পা রাখা কাউছ মিয়ার বয়স একানব্বই পার হলেও তিনি এখনো প্রাণবন্ত।

কাউছ মিয়া মনে করেন, মানুষ যদি শরীর ও মনের দিক থেকে সুস্থ থাকে, সেটি আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ সুস্থ থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, রাব্বুল আলামিনের কাছে শোকরিয়া, আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা ৭১ বছর এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

১৯৫৪ সাল থেকে এ যাবৎ ২২ বার দেশে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। দেশের যে প্রান্তেই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গন, পাহাড়ধস হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে যখন বৈশ্বিক করোনা মহামারি দেখা দেয় তখনসহ প্রতিটি দুর্যোগে তিনি বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ-সাহায্য দিয়েছেন।

১৯৮৮-এর ভয়াবহ বন্যার সময় টানা একমাস, ১৯৯৮’র বন্যার সময় প্রায় দুই মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়ে কাউছ মিয়া দেশ-বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেন। ২০২০ সালে মানুষ যখন মরণব্যাধি করোনাভাইরাসে দিশেহারা, এ সময়েও প্রায় ৭/৮ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দিয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

করোনার এই দুঃসময়ের মধ্যেও দেশে পাঁচবার বন্যা হয়েছে। সেই বন্যাকবলিত এলাকায় তিনি তার। বিস্বস্ত লোক দিয়ে ত্রাণ সহয়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
এভাবেই চব্বিশ বছর বয়স থেকে ৬৭ বছর যাবৎ মানবসেবা করে যাচ্ছেন হাজী মোঃ কাউছ মিয়া।

একই রকম খবর