চাঁদপুরের জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে : সরগরম হয়ে উঠেছে মাছঘাট

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী: ইলিশের আমদানি শুরু হয়েছে চাঁদপুরে প্রধান মৎস্য আড়ত বড় স্টেশন মাছঘাটে। সাগর মোহনায় টানা ৬৪ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় এবং চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অনেকটা নীরব ছিল চাঁদপুর মাছঘাট। নিষেধাজ্ঞা শেষ আর পদ্মা-মেঘনায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে মাছঘাটে ইলিশের আমদানি বাড়ায় খুশি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে চাঁদপুর মাছঘাটে প্রতিদিন ৮০০ মণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেদের আহরিত ছোট সাইজের ইলিশও নিয়মিত মাছঘাটে বিক্রি হচ্ছে। দুই-তিন দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের আমদানি হওয়ার কারণে সরগরম হয়ে উঠেছে মাছঘাট। চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পাইকারি, আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও শ্রমিকদের মধ্যে।

সরেজমিনে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে দেখা যায়, বড় বড় ট্রলার ও পিকআপ থেকে টুকরিতে করে নামানো হচ্ছে ইলিশ। আর এসব ইলিশ দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, দৌলতখান, চরফ্যাশন, হাতিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাছঘাটে আনা হয়েছে। শ্রমিকরা তড়িঘড়ি করে এসব ইলিশ আড়তে নামাচ্ছেন। বিক্রির জন্য আড়তগুলোর সামনে বড় বড় স্তূপ করে সাজানো হয়েছে ইলিশ।

সাগরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকে চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। বর্তমানে ৯০০ থেকে ১ হাজার গ্রামের ইলিশের দাম ১১ শ’ টাকা। এক কেজির ওপরের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, দেড় কেজির ওপরের ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি। আর একই মাছ যদি দক্ষিণাঞ্চলের হয়, তাহলে প্রতি কেজিতে ১০০ থেকে দেড় শ টাকা কমে যাবে।
এখন চাঁদপুর মাছঘাটে যে ইলিশগুলো আসছে, এসব ইলিশের সাইজ খুবই ছোট। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম, যে কারণে আমদানি আরও বাড়বে। চাঁদপুর জেলা ইলিশের শহর হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। যে কারণে ইলিশের সবচেয় বড় ল্যান্ডিং সেন্টার এখানে। আর কিছুদিন পর থেকে ইলিশের আমদানি ও রফতানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন মহৎ ব্যবসায়ীরা।

একই রকম খবর