চাঁদপুরে করোনা নিয়ে মানুষের মাঝে উদাসীনতা, হাট বাজারে জনতার ঢল

মাসুদ হোসেন : মহামারি করোনার থাবায় সারা বিশ্ব আজ ঘরবন্ধি হয়ে পড়েছে। অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এখনো পর্যন্ত সঠিক কোন প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিস্কার না হওয়ায় সংক্রামক এ ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় মিলছে না।

তবে একমাত্র সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখলে ভয়াবহ এই মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভয়ানক এই করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার জনসাধারনের মধ্যে।

ফলে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার আট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকে অবাধে ব্যবসা বাণিজ্য ও চলাফেরা করছেন।

এতে হাট বাজরগুলোতে বিরাজ করছে মানুষের ঢল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা থোড়ায় কেয়ার করছেন। ফলে এসব এলাকাগুলোতে মৃত্যুর প্রাদূর্ভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের সচেতনতামূলক কোন কর্মসূচীই যেন পৌঁছাচ্ছে না উপজেলার হাট-বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে। হাট-বাজারের সময় সীমা বেধে দেওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের মত হুড়োহুড়ি করে বাজার করছেন অধিকাংশ ক্রেতা। ক্রেতাদের মুখে নিম্মমানের মাস্ক পরা থাকলেও বেশির ভাগ বিক্রেতারা ব্যবহার করছেন না মাস্ক কিংবা হ্যান্ড গ্লাভস। দেখে বুঝার উপাই নেই যে, মহামারী করোনার থাবা পড়েছে এই দেশে।

তাদের সচেতনতার জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এ যেন সবই বৃথা।

সারা বিশ্বকে আজ করোনা অচল করে দিলেও চাঁদপুরের অনেকেই তা হাস্যরস মনে করছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল, প্রচারণা চালালেও বেশির ভাগ মানুষ তা অগ্রাহ্য করছেন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তার উল্টো চিত্র। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী লোক চক্ষুর আড়ালে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে অনেক সময় গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তার পরেও থেমে নেই এই লুকোচুরি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনসাধারণের মধ্যে অসচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। হাট বাজারের এই দৃশ্য দেখে যে কেউ বলবে উৎসবের আমেজ চলছে এই এলাকাতে। অন্যদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে জেলার ছোট বড় বিপনি বিতানগুলো।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা সকালের সূর্য উঠার আগেই কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ তাদের এ গাফিলতি ও অসচেতনতার কারনে বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় করোনা ভাইরাসে ৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ জন। আরো যে কত লোকের নাম আক্রান্ত কিংবা মৃতের তালিকায় আসবে তা নিয়ে সংশয় কাজ করছে সুশিল সমাজের।

একই রকম খবর