চাঁদপুরে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ২২ ডাক্তার ৩৬ নার্স

স্টাফ রিপোটার : দুনিয়া কাঁপানো মহামারীকালে যাঁরা কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস নামে এক প্রাণঘাতী গুপ্ত ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের পরিচয় তাঁরা ‘মানবতার চিকিৎসক’।

আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা এবং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ২২ জন চিকিৎসক এবং ৩৬ জন সেবক-সেবিকা। যাঁরা মাসের ৭দিন পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তাও তারা কোভিডে আক্রান্ত হন নি নিশ্চিত হওয়ার পর। অন্যদিনগুলোতে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান আইসোলেশন ওয়ার্ডটি হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। যেটি আগে পুরুষ ওয়ার্ড ছিলো।

এখানে বর্তমানে ৬০টি সিট রয়েছে রোগীদের জন্যে। কোভিড তথা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের রাখা হয় ওয়ার্ডের একটি অংশে, আর সন্দেহভাজনদের রাখা হয় ওয়ার্ডের আরেক অংশে। এসব রোগীকে ২২ জন চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এই চিকিৎসকদের জন্যে ডিউটি রোস্টার করা আছে। সে অনুযায়ী তাঁরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

২২ জন চিকিৎসকের মধ্যে সাতজন হচ্ছেন সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র কনসালটেন্ট, চারজন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও প্রভাষক এবং ১১ জন হচ্ছেন সহকারী সার্জন।

একইভাবে সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়ে ৩৬ জন নার্স বা সেবক-সেবিকাও রয়েছে। তাদেরও পর্যায়ক্রমে ডিউটি রোস্টার করে দেয়া হয়েছে। তাঁরা সেভাবেই ডিউটি করে থাকেন।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করা চাঁদপুরের একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক সার্জারী, ডাঃ সোহেল আহমদ জানান, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭ দিন যাবত টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।  বর্তমানে যারা আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে তারা ভালো আছে।

কয়দিন যাবত অরুনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার কয়েক ঘন্টা পর বেশ কিছু রোগী মৃত্যু বরণ করেছেন।এ সময় আমাদের কিছু করার থাকে না কারণ তারা এত কম অক্সিত্রে অক্সিজেন সেচুরেশন নিয়ে আসেনতাই রোগীদের উদ্দেশ্যে বলবো করনা উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করতে হবে।

করা টেস্ট আসতে এক সপ্তাহ সময় লাগে তাই বুকে একসেপ্ট করলে উপসর্গ আছে কিনা তা প্রাথমিকভাবে বুঝা যায়। যদি রোগীর অক্সিজেন মাত্রা কমে যায় তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমাদের চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

রোগীদের উদ্দেশ্যে একটাই মেসেজ আপনারা আতঙ্কিত হয়ে ঘরে বসে থাকবেন না চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।

একই রকম খবর