চাঁদপুরে খেলার মাঠগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়িদের কাছে

স্টাফ রিপোর্টার ; চাঁদপুর শহরের খেলার মাঠগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়িদের কাছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে হতাশাগ্রস্থ অভিভাবকরা।

চাঁদপুর শহরের বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ আছে যা বিগত বছরে ঘুরে আসলে দেখা যাবে খুবই জাকজমক পূর্ণ ছিল ওইসব খেলার মাঠগুলো।

বিকাল হলেই শিশু-কিশোররা ফুটবল, ক্রিকেট খেলার জন্য আত্মহারা হয়ে উঠতো। তখন দেখা যেতো অনেক বাচ্চাদের অভিভাবকরাও মাঠে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো তাদের সন্তানদের খেলা দেখার জন্য। প্রায় সময়ই বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন হতো এইসব মাঠ গুলোতে। বিশেষ করে চাঁদপুর সরকারি মাঠ ও হাসান আলী হাই স্কুল মাঠেও অথচ চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে এখন চটপটি দোকানসহ বিভিন্ন হকারদের অর্ধেক মাঠই বেদখল হয়ে গেছে। এখানে দুপুরের পরপরই চটপটি দোকানদাররা শত শত চেয়ার বিছিয়ে রাখে যাতে করে তাদের কাস্টমাররা আরাম করে বসে চটপটি খেতে পারে।

পাশাপাশি কয়েকটি ভ্যানে করে জামাকাপড়সহ আমের একটি বড় দোকান রয়েছে। যে দোকানটি চারদিকে ডেকোরেশনের কাপড় দিয়ে মোড়ানো। ওইসব হকার ব্যবসায়িরা কিছুদিন আগে দেখা গেল বিকালে কিশোররা ফুটবল খেলছে একদিকে আরেকদিকে চটপটি বিক্রি করছে এসব ব্যবসায়িরা।

একটি ছোট বাচ্চার মুখে গিয়ে সাথে সাথে ওই বাচ্চা মারাত্মক আহত হলো। এছাড়া এরকম আরো বহু ধরণের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই সময় এই মাঠে। এমনকি কিশোরদের ওইসব চটপটি ব্যবসায়িদের তর্কবিতর্ক এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছিলো। এ বিষয়ে চাঁদপুর হাসান আলী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি বাচ্চাদের খেলার মাঠটি বেদখল মুক্ত করার জন্য। কারণ এই মাঠটি বাচ্চাদের খেলার মাঠ। এখানে কোন হকার থাকা যাবে না।

বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত প্রতিদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই বাচ্চারা যেনো মাঠে খেলাধূলা করে সে বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আমি এখানে যোগদান করেছি অল্প কিছুদিন মাত্র। আমি তেমন সুযোগ পাইনি মাঠটির বিষয়ে তদারকি করার জন্য। আমি সহসাই মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজন হলে আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠটিকে হকার মুক্ত করে বাচ্চাদের খেলার উপযোগী মাঠ করে দেবো। পাশাপাশি যদি সরকারি অনুদান পাই মাঠটির চারদিকে অল্প উচ্চতায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়ার চেষ্টা করবো। আমি একজন খেলোয়াড় প্রেমিক মানুষ। খেলাধূলার বিষয়ে আমার যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে।

এখন চাঁদপুরের স্থানীয়দের অভিযোগ এসব হকার বা চটপটি ব্যবসায়ীরা কিভাবে একটি সরকারি খেলার মাঠ বেদখল করার পরিকল্পনা করছে। এর বিনিময়ে শিশু কিশোররা মাঠে খেলতে পারছে না প্রাণভয়ে। অথচ এই মাঠে বছরে ৩/৪টা টুর্নামেন্ট হতো। অপরদিকে পৌর ঈদ গাঁ মাঠটি এখন পিকআপ, ট্রাকের পার্কিং জায়গা হয়ে গেছে। দিন-রাত এই মাঠটিতে এখন পিকআপ, ট্রাকের বেদখল রয়েছে। এতে করে শিশু-কিশোররা এই মাঠটিতে ভালোভাবে খেলতে পারছে না। অথচ এই মাঠটিতে এক সময়ে আল-আমিন একাডেমী স্কুলের ছাত্ররা ক্লাস শেষ করেই খেলার জন্য ছুটে আসতো।

এছাড়া মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড়রা দুপুরের পরপরই প্যাকট্রিজ করার জন্য মাঠে নেমে যেতো। এছাড়া বিভিন্ন সময়েও দেখা যেতো বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হতো এই মাঠটিতে। এখন আর হচ্ছে না। তার কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের দখল নামক গাড়ী পাকির্ং করে রাখছে প্রতিনিয়ত। তারই কারণে এখন আর এই ঈদ গাঁ মাঠে তেমন খেলতে পারছে না শিশু-কিশোররা। চাঁদপুর শহরের মুখার্জী ঘাটে শিশু পার্ক নামে একটি খেলার মাঠ রয়েছে। এখানেও অসাধু ব্যবসায়ীরা ইট, কংকর, বালি রেখে বেদখল করে রেখেছে। এখানে আর শিশু-কিশোররা ঠিকমতো খেলতে পারছেনা অসাধু ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালীপনার কারণে।

অথচ আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ছুটির পরপরই খেলাধূলায় মেতে উঠতো এই পার্কটিতে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা কোন মাথাই গামাচ্ছে না। অপরদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠটি সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য যদিও খেলাধূলা বন্ধ করা হয়েছিল কিন্তু চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের আন্তরিকতার কারণে বর্তমানে খেলাধূলা করার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরপর চাদপুর শহরে আউটার স্টেডিয়াম ছাড়া তেমন কোন খেলার মাঠ নেই। এই আউটার স্টেডিয়ামটি দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে।

একদিকে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমী তারা অস্থায়ী সীমানা প্রাচীর করেছে বাচ্চাদের ক্রিকেট কোচিং করার জন্য। তবে অন্যান্য জেলার স্টেডিয়ামগুলো দেখা যায় বেশিরভাগই তালা মারা থাকে সাধারণ জনগণ তেমন খেলতে সুযোগ পায় না। অথচ চাঁদপুর স্টেডিয়ামের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুর খেলোয়াড় সুলভ মন মানসিকতা থাকায় চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠটি সাধারণ জনগণকে খেলাধূলা করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

স্টেডিয়াম ও আউটার স্টেডিয়ামে প্রতিদিনই আশে পাশের পাড়া মহল্লাগুলোর শিশু-কিশোর ও যুবকরা খেলায় মেতে উঠছে প্রতিদিন। শীতের মৌসুমে বাচ্চাদের যখন বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায় তখন বাচ্চারা খেলার মাঠে যাওয়ার জন্য আগ্রহ বাড়ে। ঠিক তখনই আউটার স্টেডিয়াম, চাঁদপুর হাসান আলী স্কুল মাঠ সহ বিভিন্ন মাঠে মেলাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড হওয়ার কারণে মাঠে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।

তাই ওই ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে খেলাধূলার স্বার্থে। চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাইস্কুল মাঠ, পৌর ঈদ গাঁ মাঠ ও মুখার্জী ঘাট শিশু পার্কটি অবৈধ দখলদার এর হাত থেকে মাঠ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

একই রকম খবর