চাঁদপুরে গুজব রটানোকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার পেট্রোলিং শুরু করেছে এসপি জিহাদুল কবির

আহম্মদ উল্যাহ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যে কোন ধরনের গুজব রটানোকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাইবার পেট্রোলিং শুরু করেছে চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম।

গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর পুলিশ মিডিয়া সেলস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশে পুরো চাঁদপুরে সাইবার পেট্রোলিং শুরু করেছে ডিবি, থানা পুলিশ এবং জেলা বিশেষ শাখা। ইতিমধ্যেই বেশকিছু ফেসবুক আইডি সনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এছাড়া যেকোনো ধরনের গুজব রটনাকারীর ব্যাপারে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করে (SP CHANDPUR) এর অফিশিয়াল ফেসবুকে আহবান জানানো হয়েছে। গুজব সৃষ্টিকারীরা নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরী করে অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি তৈরী করতে চায়। এজন্যই এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও ফেসবুক আইডি দ্রুত পুলিশের নজরে আনুন। মনে রাখবেন গুজবের শিকার হয়ে আপনি নিজেও বিপদে পড়তে পারেন ।

এদিকে চাঁদপুরের জনবান্ধব পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম মহোদয় তাঁর ফেসবুকে সতর্ক বার্তা দিয়ে স্ট্যাটাসে জানান “ প্রিয় চাঁদপুরবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় স্বার্থানেষী মহল পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে মর্মে বিভ্রান্তি/গুজব ছড়াচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষুক/প্রতিবন্ধি/ভরঘুরে মহিলা/পুরুষদের আটক করে গণপিটুনির ঘটনা গটাচ্ছেন। প্রতিটি ঘটনা আমাদের নজরে আসছে এবং যারা এর পিছনে আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এরুপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা গেল। পুনরায় একই ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা/ঘটালে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্ব্বোচ্চ আইনানুগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে শকুনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহীনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিবেদক চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম।

তিনি আরো জানান,“ আমার পেইজ (SP CHANDPUR) এর সাথে যারা যুক্ত আছেন আপনাদের সকলের প্রতি আমার অনুরোধ থাকলো আপনাদের আশেপাশে কাউকে যদি এই সংক্রান্ত কোন ধরনের বিভ্রান্তীমূলক তথ্য কিংবা গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে দেখেন তাহলে আমাকে ঐ সকল পোষ্টের স্কীনশট ইনবক্স করুন।

এদিকে শুক্রবার (১২ জুলাই) পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে মানুষকে উত্তেজিত করে এলাকার আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর কারণে ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানান, ফেসবুকে অপপ্রচার ও মারধরের অপরাধে এদেরকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ঢাকা তালিমুল কোরআন হাসানিয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্র আল-আমিন (৮) ও দক্ষিণ রঘুনাথপুর এলাকার শাখাওয়াত হোসেন (১৭) নামের এক মানুষিক রোগীকেও একজন পাগলকে উদ্ধার করে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন এই বিষয়ে সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করে এসব তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ, অপারেশন্স আব্দুর রবসহ পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন জানান, ‘ছেলে ধরা খবরটি একদমই গুজব। চাঁদপুরের কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে- এখন পর্যন্ত তার কোন সত্যতা মেলেনি। তবে গ্রামের অতি উৎসাহী কিছু লোক ছেলে ধরা গুজবে কয়েকজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুককে মারধরের করেছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক।’

তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে সচেতনামূলক এক স্ট্যাটাসে বলেন, প্রিয় চাঁদপুরবাসী, গুজবে কান দিবেন না। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এবং এলাকার ছেলে ধরে নিয়ে যাচ্ছে কথাটিক গুজব ও মিথ্যা। আপনি আপনার এলাকার ছেলে-মেয়েকে স্কুল-কলেজে পাঠান। পুলিশ প্রশাসন আপনার পাশে আছে। যারা ছেলে ধরা বলে নিরীহ লোককে মারধর করতেছে তারা আইনের আওতায় আসবে।

একই রকম খবর