চাঁদপুরে ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্য শোহরাবকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক

শওকত আলী : চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশ অঞ্চল-৪এ’ টহল সদস্যদের অভিযানকালে শহরের কোর্টস্টেশন এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী, মাদক বিক্রি, সেবনকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মো: শোহরাব হোসেন গাজী ওরফে শোহরাব(১৮)কে দেশীয় অস্ত্রসহ কমিউনিটি পুলিশ টহল সদস্য মো: সোহেল মিজি ও মো: জাকির গাজী আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

এ সময় তাদের সহায়তা করেন,অঞ্চল-৫ এ’টহল সদস্য ভুট্টু বেপারী ও নূর-ম্যানশনের নাইট গার্ড মো: সেলিম গাজী। সে সদর উপজেলার মৈশাদী গাজী বাড়ির মৃত শফিক গাজীর ছেলে। রাতেই আটক ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্যকে চাঁদপুর মডেল থানায় ডিউটি অফিসার মো: ফারুকের নিকট হস্তান্তর করে কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ। বুধবার বিকেলে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাকে চাঁদপুর আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে চাঁদপুর কোর্টস্টেশন এলাকার অসংখ্য ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান,আটক সোহরাবসহ এখানে একটি সংঘ্যবদ্ব চক্র রয়েছে,এরা ট্রেনের যাত্রীদের টাকা,পয়সা,মালামাল ছিনতাই ও চুরি করে থাকে।

এ চক্রটি এখানে থেকে গাজা,ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ক্রয় ও বিক্রির সাথে জড়িত। তারা নিজেরাও মাদক সেবন করে, এখানকার ভিক্ষুকদের কাছ থেকে ছুরি দেখিয়ে তাদের উপার্যন করা অর্থ এ ছিনতাইকারী ও চোর চক্র নিয়ে যায় বলে কোর্টস্টেশন এলাকা ভিক্ষুকরাও অভিযোগ করে জানিয়েছেন। এ স্টেশনটি রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিন দায়িত্বে রয়েছে বলে রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। তাদের দায়িত্বে থাকলেও তারা নিযমিত এ স্টেশনের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। যার ফলে এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। চাঁদপুরের সচেতন মহলের দাবী রেলওয়ের পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করলে যাত্রীরা তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা ফিরে পাবে। তাই তাদের দায়িত্ব পালন করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে. বুধবার রাত অনুমান ২টায় শহরের রেলওয়ে কোর্টস্টেশন গেইট ঘর এলাকায়। অভিযান কালে ছিনতাইকারী শোহরাব গাজীর কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র একটি দারালো ছুরি,একটি টচলাইট,২টি গ্যাস লাইট,গাজা কাটার কাটাইল,গাজা সেবনের কলকী ও একটি রুমাল জব্দ করা হয়।
মালামাল চুরি যাওয়া দোকানের মালিক আমিনুল হক আমিন জানান, এ চক্রটি এ ভাবে আমাদের দোকান থেকে সিগারেট ক্রয় করার অজুহাতে চোঁখে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মালমাল বিগত বছর ধরে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা তাদের হাতেনাতে ধরার চেস্টা করেও ধরতে পারিনি। আজ কমিউনিটি পুলিশ তাদের ধরতে পারায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

কমিউনিটি পুলিশ অঞ্চর-৪এ’টহল সদস্যরা জানান,তারা প্রতিদিনের ন্যায় শহরের কোর্টস্টেশন এলাকায় অভিযানকালে দেখতে পায় চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্য শোহরাব গেইটঘর সংলগ্ন এলাকার আমিন স্টোর থেকে সিগারেট ক্রয় করার বাহানায় সুকৌশলে একটি ক্রিরিমরোলের বক্য চুরি করে নিয়ে কোর্টস্টেশনের প্লাটফরমের ভিতরে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা ভিতরে প্রবেশ করে তার শরীর তল্লাশী করে শরীরে থাকা টি সাটের ভিতরে একটি ক্রিরিমরোলের বক্য ও উপরোক্ত দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন চুরি করার সরঞ্জাম উদ্বার করে।

এ সময় ছিনতাইকারী শোহরাব গাজী জানান,সে স্টেশন প্লাটফরমে বসবাস করে এবং এ এলাকার সুমন মজুমদারের দোকানে ভাঙ্গারী মালামাল বিক্রি করে। এই সুযোগে এখানে ছিনতাই,ট্রেনে পকেট কাটা,চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। এ ছাড়া শহরের বড় স্টেশন এলাকার গাজা ব্যবসায়ী শুক্কুরের নিকট থেকে গাঁজা ক্রয় করে সে গাঁজা নিজে সেবন করে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে থাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২মাস পূর্বে ৩৬০ টাকা ছিনতাই করার অভিযোগে তার বিরুদ্বে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা হয়। সে মামলায় সে জেল থেকে গত ১মাস পূর্বে জামিনে মুক্তি পেয়ে পূনরায় পূর্বের ন্যায় অকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল।

কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা জানান,এ ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্য শোহরাবের সাথে একটি চক্র রয়েছে। ইতিপূর্বে তাকে ও তার সাথে অন্যদেরকে একাধিকবার আটক করে থানায় সৌপদ করা হয়। তাদের এ কাজের সাথে যারা জড়িত(গডফাদাররা) তারা এদেরকে আদালত থেকে জামিন করিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা আটক ব্যাক্তিকে থানায় হস্তান্তর করলে আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

একই রকম খবর