চাঁদপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৩ মাসে ৭শ’ ৯০ মামলা নিস্পত্তি

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের বিচার বিভাগ থেকে সঠিক ভাবে দায়িত পালন ও বিচার প্রার্থীদের হয়রানি থেকে রক্ষায় কাজ করে যাচেছন বলে প্রমান মিলেছে। প্রমান হিসেবে পর্যালোচনায় দেখা যায়,গত ৩মাসে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারীসহ ৭শ’ ৯০টি মামলার নিস্পত্তি করে রেকর্ড সৃস্টি করেছেন।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব মামলার নিস্পত্তি হয়। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলার নিস্পত্তি হয়েছে ৮৯টি এবং ফৌজদারী মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ৭শ’ ১টি।

চাঁদপুরে ৩য় ত্রৈমাসিক জুডিশিয়াল কনফারেন্স ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা জজশীপের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জামিন শুনানীসহ যে কোন শুনানীর ক্ষেত্রে এজলাসে আসামীর উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারের ক্ষেত্রে গুনগত মান রাখতে হবে। পুলিশ বিভাগের সঠিক তদন্ত সহ আইনজীবীদের মেধার মাধ্যমে যদি সকল ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে বিচার কার্যক্রম আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়া যাবে। থানায় মামলা দাখিল করার সময় কোন বিচারপ্রাথী যদি এমসি সময়মতো না দিতে পারে তাহলে এই ক্ষেত্রে মামলায় আয়ুকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এমসি সংগ্রহ করে তা মামলার সাথে জমা দিতে হবে।তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, পুলিশের কাছ থেকে সমন ও এনবিডব্লিউ ঠিকমতো আসে না।

এর কারনে আদালত অনেক কিছু জানতে পারে না । অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে হলে এ বিষয়ে সকলের খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশ, পিবিআই ও মাদ্রকদ্রব্য কর্মকতাদের রিপোট প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক সময় ব্যবহার করতে হবে। দেওয়ানী ও ফৌজধারী মামলার নকলের ক্ষেত্রে নকলখানায় নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুগ্ন জেলা দায়রা জজ- (১) শাহেদুল করিমের পরিচালনায় কনফারেন্সে অনন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সরওয়ার আলম , চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নুরে আলম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ- (২) অরুন পাল, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ কায়সার মোশারফ, ল্যান্ড সার্ভ টাইবুন্যালের বিচারক ফারহানা ইসলাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শফিউল আলম, কামাল হোসাইন, হাসান জামান, কফিলউদ্দিন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শুভা চক্রবর্তী, জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কার্তিক ঘোষ, সিনিয়র সহকারী জজ ( সদর ) শামসাদ জাহান খান, সহকারী জজ আলী নুর ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মিথিলা রানী দাস, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডঃ শেখ জহিরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক অ্যাডঃ শাহাদাত হোসেন, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডঃ আমানউল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের পিপি অ্যাডঃ হাবিবুল ইসলাম তালুকদার, জেলার আবু মুছা, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডাঃ সাজেদা বেগম, পিআইবি পুলিশ পরিদর্শক কবির আহমেদ, কোট ইন্সেপেক্টর মহিউদ্দিন মিয়া প্রমুখ।

শনিবার বিকেলে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ত্রৈমাসিক বিচারকার্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানাগেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেওয়ানী মামলা নিস্পত্তি হয় ৮৯টি। এর মধ্যে গত ৩ মাসে নিস্পত্তি হয় ২৭টি দেওয়ানী আপিল মামলা, ২৭টি অর্পিত আপীল মামলা, ১টি মানী আপিল মামলা, ৭টি পারিবারিক আপিল মামলা, বিবিধ আপিল মামলা ১৪টি, সিভিল রিভিশন মামলা ১১টি ও বিবিধ মামলা ২টি।ফৌজদারি মামলা নিস্পত্তি হয় ৭০১টি।

এর মধ্যে এসসি ২৮টি, এসটিসি ১টি, ফৌজদারী আপিল মামলা ১২৩টি, ফৌজদারী রিভিশন ৯৬টি, ফৌজদারি বিবিধ মামলা ৪৩৫টি। বর্তমানে দেওয়ানী মামলা বিচারাধীন রয়েছে ৬৭৪টি এবং ফৌজদারী মামলা বিচারাধীন রয়েছে ২হাজার ৬শ’ ৩টি।

একই রকম খবর