চাঁদপুরে জেলা পুলিশের মানবিক কর্মকাণ্ড সব শ্রেণির মানুষের মুখে মুখে

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : করোনা দুর্যোগে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করে চাঁদপুর জেলা পুলিশ জনসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জেলা পুলিশের মানবিকতা এবং নানা গণমুখী তৎপরতা সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ করোনায় আক্রান্তদের সেবা, মারা যাওয়া নারীর লাশ হাজীগঞ্জে দাফন করতে নিজ হাতে কবর খোঁড়া ও জানাজা পড়ানো, মানুষকে ঘরে রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টাসহ নানা কাজ জেলার সর্বত্রই প্রশংসিত হচ্ছে।

বিশেষ করে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের মানবিক সব কর্মকাণ্ড এখন জেলার সব শ্রেণির মানুষের মুখে মুখে। করোনার চরম ঝুঁকি নিয়ে এ পুলিশ সুপার প্রতিদিনই ছুটছেন জেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। জেলা পুলিশের সব ইউনিটকে সদা জাগ্রত রাখছেন মানবসেবায়।

লকডাউন কার্যকর, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত রোধ, অযথা ঘোরাঘুরি বন্ধ, কমিউনিটি পুলিশ ওয়াচ টিম গঠনের মাধ্যমে মার্কেট, দোকান বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া প্রণয়ন, জেলার বড় বড় বাজারগুলো বন্ধ রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, পুলিশের নিজস্ব বেতনের কিছু ও রেশনের অংশের অর্থায়নে অসহায়দের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে এখানকার পুলিশ বাহিনী।

আরও দৃষ্টিনন্দিত কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাদ্য সহায়তা প্রদানে সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ নিতে আসা মানুষের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, লকডাউন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাতের বেলা রাস্তায়, প্লাটফর্মে শুয়ে থাকা অসহায় মানুষকে নিজেদের কেন্টিনে রান্না করা খাবার প্রদান, হিজড়া সম্প্রদায়ের একশ’ দশজন ও বেদে সম্প্রদায়ের প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের কাজটি অব্যাহত রেখেছে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে।

এছাড়া ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রিতে সহায়তা, পথশিশু, রিকশাচালক, ভিক্ষুক, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিভিন্ন থানায় খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী প্রদান, চাঁদপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান কাটতে প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক প্রেরণ, করোনা শনাক্ত রোগীর বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করাসহ নানা কাজে জেলা পুলিশের সব ক’টি ইউনিট মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটছেন সমগ্র জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। এতে জেলাবাসীর কাছে পুলিশ সুপারের মানবিকতা প্রশংসিত হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

জেলার কর্মহীন অসহায় হতদরিদ্র ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সচেতন করা, করোনায় আক্রান্তদের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কাজটি অব্যাহত রেখেছেন এখানকার পুলিশ। এসব কর্মকাণ্ড জেলা পুলিশ তাদের বেতনের অর্থ দিয়ে পরিচালনা করেছে বলে জেলা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সুপারের সঙ্গে থেকে সার্বক্ষণিকভাবে ছুটে যাচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর দফতর মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরীসহ একদল মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা। এ জেলা পুলিশের সব সদস্য দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখছেন। এতে জেলার মানুষের মাঝে স্বস্তি ও অনেকটা সোহাদ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বিপিএম (বার) বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি মহোদয়ের মানবিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা জনসাধারণের পাশে আছি। করোনায় মানুষের সেবা দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে চাঁদপুরে ১২ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাতেও আমাদের মনোবল ভেঙে যায়নি।

উল্লেখ্য:চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান, পিপিএম (বার) ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তার নির্দেশে জেলার পুলিশ সদস্যরা এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক তৎপরতা রয়েছেন। তিনি
১৯৭৩ সালের ০২ অক্টোবর পাবনা জেলার সদর উপজেলার শালগাড়ীয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম আব্দুস সাত্তার, মাতা মরহুম রাবেয়া বেগম। তিনি ২০০১ সালের ৩১ মে ২০ তম বিসিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

তিনি শিক্ষাজীবনে পাবনা জেলা স্কুল, সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ, সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ পাবনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান এর পর যশোর জেলা, র্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ, এসবি ও জেলাসহ পুলিশের বেশ কিছু ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। চাঁদপুর জেলায় যোগদানের পূর্বে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ সালের ২৯ শে অক্টোবর হতে ২০০৯ সালের ২৭ শে অক্টোবর পর্যন্ত FPU Mission (Ivory Cost) দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান, পিপিএম (বার) ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার স্ত্রী ফারহানা চৌধুরী বাংলাদেশ বিমান-এ কর্মরত আছেন, কন্যা তাসমিতা রহমান ১০ শ্রেণীতে এবং পূত্র ফাহিম রহমান ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত আছেন।

একই রকম খবর