চাঁদপুরে তারুন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সংবর্ধণা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের তারুন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি, সংবর্ধণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গত ২৫ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম অ্যাডভোকেট মকবুল আহমেদ ( মরনোত্তোর সংবর্ধনা) , জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তীকে সংবর্ধিত করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতির শক্তি যে কত অসীম, সেটাকে ফেলে দেওয়ার মত কোন সুযোগ নেই, একটি সমাজকে বদলে দেওয়ার জন্য, কুসংস্কার কে কাটানোর জন্য, আলোর উদগীরণ ঘটানোর জন্য, যে কাজ অসম্ভব বলে মনে হয়, সে কাজকে সম্ভব করার জন্য একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন অনেক ক্ষেত্রে মূল ভুমিকা রাখে।

তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের যে কি শক্তি, মহান মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন সময়ে মোরা একটা ফুলকে বাঁচাবে বলে যুদ্ধ করি, আরো দেশের গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছে।
সেটা যারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন তারাই আন্দোলন – সংগ্রাম করে স্বাধীন বাংলাদেশ, লাল-সবুজের পতাকা উপহার করতে পেরেছে, তারাই রাষ্ট্র দিয়েছেন তারাই স্বাধীন করেছেন। সাংস্কৃতির সাথে থাকাটা রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

এই স্বাধীন বাংলায় আমার একটা আক্ষেপ যে মাঝে মাঝেই আমি আমার বাবাকে বলি আপনি মুক্তিযুদ্ধ করলেন না, এটা আমার আপসোস থাকে। বাবা তাঁর উত্তরে বল্লেন, তোরা ভাই-বোন তখন অনেক ছোট ছোট শিশু , তোদের ছোট রেখে যেতে পারেনি। কিন্তু আমার মামা ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১ নং সেক্টর কমান্ডার বীর বিক্রম রফিকুল ইসলাম এমপি। আমি তাদের কে সৌভাগ্যবান মনে করি, যারা আজ বলতে পারে “আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান”। তেমনি এই সংগঠনের সভাপতি ফেরদাউস মোর্শেদ জুয়েল সহ এখানে অনেকেই আছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই যে একটা পরিচয় সেটা আমি দিতে পারিনা। আমাদের জীবদ্দশায় নয় হাজারবার জন্ম নিলেও এই পরিচয় দেয়ার সুযোগ আর হবেনা। এই বাংলার মাটিতে অনেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, হাজার বার মেয়র হবেন কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আর কেউ হতে পারবনা।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সংবর্ধিত অতিথি যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করেছে তরুনরা, নেতৃত্ব দিয়েছে তরুনরা, আজকে তরুন যারা মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, রেললাইন, হাসান আলী মাঠ সহ ব্রিজের উপরে আড্ডা দিচ্ছে, যারা অহেতুক সময় কাটাচ্ছে তারা যদি আজ এখানে উপস্থিত থাকতেন তাহলে হয়তো অনেক গুনীজনদের জীবন কাহিনি শুনতে পারতেন। আগামী কিছুদিন পরেই মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হবে, আমি সকল তরুণ প্রজন্মকে উপস্থিত থেকে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য আহবান জানাবো।

তারুন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ফেরদাউস মোর্শেদ জুয়েলের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আতাউর রহমান পাটওয়ারী পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র এডভোকেট মোঃ হেলাল হোসাইন, শরীয়তপুর জেলার চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিতু বেপারী, চাঁদপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তপন সরকার, অনন্যা নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, সংগঠনের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন ভুইয়া।

অতিথিবৃন্দের বক্তব্য শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট মুকবুল আহমেদকে মরণোত্তর সংবর্ধণা ক্রেস্ট ও উত্তরীয় গ্রহণ করেন মরহুমের পুত্রবধু, সংগঠনের সভাপতি ফৈরদাউস মোর্শেদ জুয়েলের সহধর্মিণী, সংবর্ধিত অতিথি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এম এ ওয়াদুদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তীর পক্ষে ক্রেস্ট ও উত্তরীয় গ্রহণ করেন। অতিথিদের কে শুভেচ্ছা স্বরুপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন পাঠান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তসলিম বেপারী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দের নিকট থেকে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত সভাপতি ফৌরদাউস মোর্শেদ জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান পাটওয়ারী , প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিশ্বনাথ চৌধুরী বিশু, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন ভূঁইয়া, গোলাম কাউসার শামীম, পিন্টু সাহা, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম শাওন, মোঃ রাসেল আহমেদ, সেলিম খান , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহাদাত, শ্যামল সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন বাবু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান অনু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সায়েম, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তানজিলা আক্তার, মহিলা সম্পাদিকা সুমাইয়া আক্তার,অর্থ সম্পাদক রুবায়েত উৎস, প্রচার সম্পাদক তাপস রায়, অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল কান্তি নন্দু, নৃত্য পরিচালক নীরব অধিকারী, সহ নিত্য পরিচালক সোহেল ঢালী, কার্যনির্বাহী সদস্য নাছির উদ্দীন নিশান, মোঃ আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী, মাহমুদুল হাসান অমি, মমতাজ বেগম, শাওন পাটওয়ারী, রাসেল গাজী, সোহাগ গাজী, নুসরাত আক্তার, ইশরাত জাহান মাইশা ও নিবিড় চৌধুরী।

কমিটি ৩ বছর মেয়াদী কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৯ সদস্যের পূনাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
অনুষ্ঠানকে বিশেষ সহযোগিতার জন্য আর জে বিল্ডার্সের কর্ণধার মোঃ রাসেল আহমেদকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এরপরই সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সায়েম সঞ্চালনায় সংবর্ধিত সংগীত শিল্পী লাভলী দেব ও মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগলা হাসানের কন্ঠে এক মনোজ্ঞ সংগীত এবং তারুণ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও নৃত্যা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

একই রকম খবর