চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর জেলায় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই এবারও ঈদুল আজহা সমাগত হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবারও ম্লান করে দিয়েছে মহামারি কোভিড-১৯। করোনায় মৃত স্বজন, আত্মীয় ও প্রিয়জনকে হারিয়ে অনেকেই শোকে কাতর। প্রতিদিনই চাঁদপুরে শতাধিক ব্যাক্তির করোনা সনাক্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, জেলার প্রায় দুই শতাধিক মসজিদে এবারের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনার কারণে মাঠগুলোতে ঈদের জামাত আয়োজন করেনি এন্তেজামিয়া কমিটি। যার কারণে মসজিদ ভিত্তিক ইদের জামাত অথাব গ্রামাঞ্চলে মসজিদের সামনের আঙ্গিনায় ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লীরা।

চাঁদপুর শহরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন কালেক্টরেট মসজিদে। সেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। পুলিশ লাইনস্ জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ পিপিএম (বার)সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে পুলিশ সুপার কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ঈদ জামাতগুলো শহরের বিভিন্ন মসজিদে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শহরের পুরান বাজার ঐতিহাসিক জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৭ টা ৪৫ মিনিটের সময়। এতে ইমামতি করেন পুরাণবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মোঃ ইব্রাহীম খলীল। মুকাব্বির ছিলেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কবির হোসেন। ঈদের নামাজ ও শেষে খুতবা মহামারী করোনা থেকে মুক্তি, দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক জামে মসজিদে ঈদের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৬টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। প্রথম নামাজের জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আব্দুর রউফ।

ঈদের নামাজ আদায় শেষে শুরু হয় আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দেয়া। শহরের লোকজনের পশু কোরবানি দেয়ারমত পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় অধিকাংশ লোকজনই শহরের মেইন সড়ক ও মহল্লার সড়কে পশু কোরবানি করেন। তবে পৌরসভার নির্দেশনা ছিলো ময়লা আবর্জনা যেন ড্রেনের মধ্যে না রাখেন। উপরে রাখা হলে পৌরসভার গাড়ী এসে নিয়ে যাবে। কিন্তু এই নিয়ম অনেকেই মানেনি। এই বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়েছে।

এদিকে গ্রামাঞ্চলে পশু কোরবানির নিরাপদ জায়গা থাকায় ময়লা আবর্জনা কম হয়েছে। অধিকাংশ লোকজন বাড়ীর পরিত্যাক্ত স্থানেই পশু কোরবানি করতে দেখাগেছে।

একই রকম খবর