চাঁদপুরে ধর্ষণ মামলার কাগজ উধাও !

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুর নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার কাগজ উধাও হয়ে যাওয়ায় চার মাসেও মামলার আলোর মুখ দেখেনি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীচর এলাকায় কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা ইব্রাহিম মোল্লা গত ১১ ই মার্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার দরখাস্ত নাম ৭৬, স্মারক নং ৭৭১। নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য চাঁদপুর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু মামলার কাগজ আদালতের মুন্সি মাহফুজ গত ১৬ ই মার্চ থানার কনস্টেবল ব্যাছ নং ১০১২ বিল্লাল এর মাধ্যমে চাঁদপুর মডেল থানার মুন্সি শিব্বির এর কাছে পাঠান।

তারপর থেকেই কিশোরী ধর্ষণ মামলার কাগজ থানা থেকে উধাও হয়ে যায়।

১১২দিনে অর্থাৎ চার মাসেও ধর্ষণ মামলাটি থানায় নথিভুক্ত না হওয়ায় বিচারপ্রার্থী কিশোরীর বাবা বিচারের দাবিতে হন্যে হয়ে ঘুরছে। ধর্ষণ মামলার কাগজ গায়েব হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে চাঁদপুর মডেল থানায় ৫ দিন তল্লাশি করেও কাগজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মডেল থানার মুন্সি শিব্বির জানায়, আদালত থেকে ৭৭১ নাম্বার স্মারকে কোন ধর্ষণ মামলা থানায় এসে পৌঁছেনি। আদালতে খোঁজ করলে পাওয়া যাবে। তারা কোন কাগজ পাঠায়নি তাদের কাছেই রক্ষিত রয়েছে। তার কথা মত নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতে গিয়ে জানা যায় মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার কাগজ আদালতের মুন্সির মাধ্যমে মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আদালতের মুন্সি মাহফুজ জানায়,গত ১৬ ই মার্চ থানার কনস্টেবল ব্যাছ নং ১০১২ বিল্লাল এর মাধ্যমে চাঁদপুর মডেল থানার মুন্সি শিব্বির এর কাছে পাঠানো হয়েছে। যদি গড়মিল হয়ে থাকে মডেল থানায় হয়েছে। কাগজে কলমে প্রমাণ আদালতে জিয়ারো অফিসে রক্ষিত আছে।

এ বিষয়ে কোট পুলিশ পরিদর্শক মহিউদ্দিন জানায়, নারী ও শিশু আদালত থেকে মামলার কাগজ পাঠানোর পর সেটি খাতায় এন্ট্রি করে মডেল থানার পাঠানো হয়েছে। যদি গরমিল হয়ে থাকে তাহলে সেখানেই হয়েছে আমাদের কোনো ব্যর্থতা নেই।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরীকে অবহিত করার পর তিনি জানান, মামলার কাগজ থানায় পৌঁছানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তবে দুই ঘণ্টার মধ্যে কাগজ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

যেই কথা সেই কাজ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করার সাথে সাথে উধাও হওয়া ধর্ষণ মামলার কাগজ অবশেষে চাঁদপুর মডেল থানায় পাওয়া গেছে।

তবে দুঃখজনক বিষয় আদালতের নির্দেশে চার মাসেও মামলাটি মডেল থানায় নথিভূক্ত করা হয়নি।

এখানে ধর্ষণ মামলার ঘটনার ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করার কথা থাকলেও ৪ মাসেও মামলাটি আলোর মুখ না দেখায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদি ইব্রাহিম মোল্লা জানান, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড লক্ষীর চরের লুতু বেপারীর ছেলে জয়নাল বেপারী (২০) তার মেয়েকে জোরপূর্বক বেশ কয়েকবার পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এই ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে ধর্ষণকারীকে বাঁচাতে এলাকায় সালিশি বৈঠক হয়।
সালিশি বৈঠকে ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পারভেজ রনি ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুকবিল প্রধানিয়া ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আহমেদ,

সাবেক মেম্বার হেদায়েতুল্লাহ ও ওসমান গাজী সহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত থেকে সমাধান করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সালিশি বৈঠকে মেম্বাররা ধর্ষণকারীদের পক্ষ নেওয়ায় অবশেষে সমস্যা সমাধান না হওয়ার কারণে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

কিন্তু প্রতিপক্ষরা মামলার কাগজ টাকার বিনিময় উধাও করে ফেলায় চার মাসেও ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়নি।
এর সাথে যারা জড়িত রয়েছে আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

একই রকম খবর