চাঁদপুরে নারীরা শ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না : তবু নারী এগিয়ে যাচ্ছে

শওকত আলী : চাঁদপুরের নারীরা তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না বলে অনেক নারী, অনেক পুরুষ, সমাজের সচেতন মহল, সুধী সমাজ ও সুূশিল সমাজের ব্যাক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে এ সব মতামত বেড়িয়ে এসেছে।

তবুও আমাদের বর্তমান সময়ের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তারা পিছিয়ে পড়ার কাজ করছেনা। সকল ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারী তার কাজের মাধ্যমে পিছিয়ে নয় অতিদ্রুত গতিতে এগিয়ে
যাচ্ছে। তবে নারীরা যে পরিমান কাজ করছে,সে পরিমান শ্রমের মর্যাদা বা মূল্য তারা পাচ্ছে না বলে নারীদের একান্ত অভিমত।

চাঁদপুর জেলাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী গ্রামের নাম বেহারীপুর। এই গ্রামের দাস বাড়ীতে বহুবছর ধরে জেলে সম্প্রদায়ের মাছ বিক্রেতাদের বসবাস। একসময় এসব জেলেদের আয়-রোজগারের উপর নির্ভরশীল ছিল পরিবারের সদস্যরা। কিন্ত সময়ের ব্যবধানে পরিবারের কেহ এখন বেকার থাকতে চায়না,তারা সকল সদস্যরাই এখন কর্মমূখী। পিছিয়ে নেই জেলে পারবারের নারী সদস্যরাও। নারীরা এখন সাংসারিক কাজের পাশাপাশি সকল কাজেই অংশগ্রহন করছেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ভাল ভাবে পিরিয়ে আনতে এখন তারা কূটির শিল্পসহ নানা কাজে এখন অংশগ্রহন করছে। তবে এদের শ্রমের প্রকৃত ও সঠিক মূল্য পাচ্ছে না তারা। তারা অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

স¤প্রতি সময়ে ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ নারীরাই মাছ ধরার জাল বুননের কাজ করছেন। কাজ করার সময়ও তাদের শিশু সন্তানদের যন্ত্রণা সইতে হয় এ সব নারীদের। মায়ের আশপাশে ঘুরাফেরা করেন সন্তানরা। তারপরেও কাজে মনযোগী হয়ে জাল বুনে যাচ্ছেন নারী। কিন্তু এসব জাল বুনন শেষে নারীরা যে পারি শ্রমিক দেওয়া হচ্ছে, তা অতি খুবই নগণ্য অর্থ। এ পরিমান কাজ করলে পরুষ দেখা যায় নারীর তুলনায় ৪গুন পারিশ্রমিক পাচ্ছে। এদেরকে হস্তশিল্পের বাস্তবমুখী ও বাণিজ্যিক কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরী করলে আমাদের দেশের উন্নয়নের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে সমাজ সচেতনদের অভিপ্রায়।

ওই বাড়ীর দুদনী রানী দাস (৭০)। দুই ছেলে ৩ মেয়ের সংসার জীবনে একটু সুখের ছোঁয়া এনে দিতে সংসারের কাজের পাশাপাশি জাল বুননের কাজেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। জাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুতা সংগ্রহ করে জাল বুনন শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয় জাল । দুই থেকে আড়াই কেজি জাল বুনন করতে এ সব নারীদের এক মাস পার হয়ে যায়। কিন্ত পারিশ্রমিক হিসাবে বুঝে পান ১’শত থেকে ১শ’ ৫০ টাকা। যা’ বর্তমান সময়ে এক ব্যাক্তির একদিনের বেলা আহার(ভাত খাওয়ার) করার মত টাকাও দেওয়া হচ্ছেনা।

একই বাড়ীর অনিমা রানী দাস, স্বরশ্বতি দাস, সন্ধ্যারানী দাস, মিতারানী দাসসহ দাস পাড়ার অধিকাংশ নারীরাই দুদদী রানী দাসের মতই জাল বুনন করছে। মাসে কেউই এক থেকে আড়াই কেজির বেশী জাল বুনন করতে পারে নাই। পারিশ্রমিক হিসাবে কেউই ২’শত টাকার বেশি উপার্জন করতে পারছেনা।

এ সব বৈষর্মের শিকার নারীরা জানান, সুতা ক্রয় করে জাল বুনার মত অর্থ না থাকার কারণে জাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুতা সংগ্রহ করে জাল বুনতে হচ্ছে। তাদের দাবী আমাদেরকে কোন সংস্থা এভাবে সহায়তা করলে আমরা আমাদের সঠিক পারিশ্রমিক পেয়ে সংসারের আয়ের সমতা ফিরিয়ে আনতে পারতাম। তাই সরকার তথা কেহ তাদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা জীবন ভালভাবে চালাতে পারতো।

তারা আরও জানান, যদি সরকারিভাবে তাদেরকে সঠিকভাবে কাজ করার প্রশিক্ষিত করে ও আর্থিক সহযোগিতা করা হয়, তাহলে নিজেরাই সুতা ক্রয় করে জাল বুনে অনেক অর্থ উপার্যন করে বেশী লাভবান হয়ে তাদের সংসারের হাল ধরে ভাল ভাবে বাচাঁর অবলম্বন হতো তাদের। এতে করে নারী তার কাজের সঠিক মূল্যায়ন পেত বলে এ সব শ্রমজিবি নারীরা জানান।

 

একই রকম খবর