চাঁদপুরে নিখোঁজ ছাত্রকে বাবা-মায়ের কোলে পৌঁছে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরে দীর্ঘ দিন নিখোঁজ থাকা ফুটফুটে কোমলমতি শিশু মাদ্রাসা ছাত্র রাহাত মোল্লাকে (১১) উদ্ধারের পর তার বাবা-মায়ের কোলে গভীর রাত পৌছে দিয়ে মহৎ কাজটি করে দৃস্টান্ত স্থাপন করলেন এক হৃদয়বান সাংবাদিক।

তিনি হচ্ছেন, বাংলাদেশ ফটোজানালিস্ট এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম মাসুদ।

এ দৃষ্টান্তমূলক ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) গবীর রাত অনুমান ২টায় শহরের রেলওয়ে কোর্ট ষ্টেশন এলাকার পুলিশ বক্সের পাশের রাস্তায়। রাহাত সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার ওমর ইবনুল খাত্তাম(রা:) মাদ্রার তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী। রাহাত জানান, তার ২ভাই ও ৩ বোন রয়েছে। সে পরিবারের ৪র্থ সন্তান। তার বাবা নৌ-টার্মিনালে ফেরি করে ফলের ব্যবসা করে।

নিখোঁজ শিশুকে ফিরে পেয়ে শিশু রাহাতে মা শাহনেওয়াজ ও বাবা জামাল মোল্লা যেন আকাশের চাঁদ যেন হাতে পেয়েছেন বলে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা শিশুকে কোলে ধারন করে তাৎক্ষনিক চুমুদিয়ে বুকে নিয়ে হারানো বেদনা ভুলে যেতে দেখা যায়। শিশু রাহাতের বাড়ি শহরের রেলওয়ে যমুনা রোডস্থ টিলাবাড়ি এলাকার গেসুগোবাড়ির নিকটে বলে শিশুটি জানান।

শিশু রাহাত ও তার পিতার সাথে আলাপকালে জানাযায়,শিশু রাহাত মোল্লা প্রায় ৪বছর যাবত সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার ওমর ইবনুল খাত্তাম(রা:) মাদ্রার তৃতীয় শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। গত প্রায় ২সপ্তাহ পূর্বে মাদ্রাসা বন্ধ হলে রাহাত বাড়িতে চলে আসে। এদিকে গত এক সপ্তাহ পূর্বে মাদ্রাসা খুললে শিশুর পরিবার তাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।

তার অভিভাবক তাকে না পেয়ে সম্বব্য সকল স্থানে খুজাখুজি করে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় দিন কাটতে থাকে। তার মা’ শাহনেওয়াজ শিশু রাহাতকে না পেয়ে পুত্র শোকে কান্না ভেঙ্গে পড়েন। শিশু রাহাত জানান,সে এক সপ্তাহ পূর্বে ভোরে ফজর নামাজ পড়ে লেখাপড়ার চাপে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে লঞ্চ য়োগে ঢাকা চলে যান।

পরে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে রাত ও দিন কাটায়। খিদা নিভারনের জন্য মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে খাওয়ার খেয়েছে। গতকাল শনিবার(১৭ ডিসেম্বর) পুনরায় ঢাকা থেকে লঞ্চ য়োগে দুপুরে চাঁদপুর আসে। শনিবার দুপুরে হকার্স মাকেটের নিকটে এক ব্যক্তি তাকে দুপুরের খাবার খাইয়েছে। পরে ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সাথে পরিচয় হলে তারা ২জন হেটে হেটে চাঁদপুর আউটার স্টেডিমে গিয়ে বিজয় মেলায় অবস্থান নেন।

সেখানে ঘুরে ঘুরে সময় পার করে এক জনের কাছ থেকে ১০টাকা সহায়তা পেয়ে সে টাকা দিয়ে কেক কিনে খায়। পরে হেটে হেটে চাঁদপুর কোর্টস্টেশন আসে রাত ১১টায়। সেখানে তার সাথে থাকা ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা শিশুকে বকুলতলার এক ব্যক্তি কাজ করার জন্য নিয়ে যায়। পরে একা কোর্ট স্টেশন এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে চাঁদপুর কোর্টস্টেশন এলাকার চাঁদপুর হোটেলের হোটেল ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম রাজিব বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি অবগত করে।

পরে কয়েকজন সাংবাদিক শিশু রাহাতকে চাঁদপুর হোটেলে এনে বসায়। পরে তার কাছ থেকে বিস্তারিত যেনে তার খিদে পাওয়ায় তাকে নাস্তা খাওয়ানো হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের চেস্টা কালে সে বুঝতে পেরে কেঁদে দেয়। এ সময় এক হৃদয়বান সাংবাদিক কেএম মাসুদ উপস্থিত সকলের সাথে আলাপ আলোচনার পরে শিশুটি বাবা-মায়ের কাছে যেতে চাইলে তাকে মটর সাইকেল যোগে রাত অনুমান ২টায় নিজে বহন করে নিয়ে শিশু রাহাতের বাবা-মায়ের পৌছে দিয়ে এক মহৎ উর্দেগ গ্রহন করে দৃস্টান্ত স্থাপন করেছেন।

একই রকম খবর