চাঁদপুরে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা: রয়েছে ১২ নম্বর তালিকায়

মাসুদ হোসেন : বেশ কিছুদিন ধরে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী থাকলেও হঠাৎ করে তা বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১ জনের। দেশে করোনা উচ্চ সংক্রমণের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে মৌলভীবাজার আর ১২ নম্বর স্থানে রয়েছে চাঁদপুর জেলা।

এজন্য বৃহস্পতিবার চাঁদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক চাঁদপুর জেলা করোণা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে বিশেষ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভ্যাকসিন আসার পর থেকে জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে অনীহা দেখা যাচ্ছে। যা করোনার সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, শেষ ১৫ দিনে চাঁদপুরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৩ জন। এছাড়া সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) চাঁদপুরে ১৭০ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন ১৮১ টি স্যাম্পল গ্রহণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চাঁদপুরে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ৩ হাজার ১৬৯ জন। আর আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন ৯৩ জন। আক্রান্ত এবং মৃতের বেশিরভাগই চাঁদপুর শহরে। যেমন- গত সোমবার জেলায় ৩০ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহরেই ১৯ জন, মঙ্গলবারে ৩৪ জনের মধ্যে শহরে ১৪ জন, বুধবারে ১৭ জনের মধ্যে শহরে ১০ জন, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহরেই ১৪ জন।

সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) এক প্রেস নোটে জানান, জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১ হাজার ৪১৬, হাইমচরে ১৮২, মতলব উত্তরে ২৩৪, মতলব দক্ষিণে ৩২৫, ফরিদগঞ্জে ৩৪৩, হাজীগঞ্জে ২৭৮, কচুয়ায় ১১৩, ও শাহরাস্তিতে ২৭৮ জন।

আর মৃত ৯৩ জনের মধ্যে- চাঁদপুর সদরে ৩২, ফরিদগঞ্জে ১৪, হাজীগঞ্জে ১৭ জন, শাহরাস্তিতে ৭জন, কচুয়ায় ৬ জন, মতলব উত্তরে ১১ জন, মতলব দক্ষিণে ৫ জন ও হাইমচরে ১ জন। সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা চলে এসেছে।

দেখে মনে হচ্ছে দেশে করোনা নেই। এমন উদাসীনতার কারণের ক্রমশ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। চাঁদপুরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, ভ্যাকসিন এসেছে মানে এই নয়- করোনাকে আমরা জয় করে ফেলেছি। আমাদের উচিত অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহার করা। কারণ, করোনা প্রতিরোধের একমাত্র হাতিয়ার মাস্ক ব্যবহার করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা।

 

একই রকম খবর