চাঁদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আলোচনা সভা ও র‌্যালি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী/মোঃ রানা সরকার : চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেছেন, আমি শুরুতেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার ভাইবা নিচ্ছি, সেখানে দেখা যায় অনেকের বয়স শেষ। যাদের চাকুরী হবেনা, তারা কর্মমূখী শিক্ষাও গ্রহন করতে পারে। আমি ডিসি হয়ে আসার পর আমি উপজেলা ভিত্তিক ভিজিট করি ৪টি। ভিজিটে দেখা যায় স্কুল কলেজের বাচ্চারা স্কুলের সময়ে স্কুলে না গিয়ে পার্কে সময় কাটায়। আরেকটি সমস্যা মাদক। এগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে বাংলাদেশে সরকারি চাকুরীর পোষ্ট কম-বেশি সাড়ে ১২লক্ষ। প্রতিবছর পড়াশুনা শেষ করে শ্রম বাজারে আসে ২০লক্ষ। এ ২০লক্ষ থেকে ৫০-৬০হাজার লোক সরকারি চাকুরী পায়। বাকিরা নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিতে হবে।

২১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, আপনারা সবাই কমিউনিটির সাথে সম্পৃৃক্ত। চাঁদপুরে পরিবার পরিকল্পনা ৪র্থ পর্যায় রয়েছে। এজন্য চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে অভিনন্দন জানাই। আপনারা আরো নজর দিলে বাংলাদেশে চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ প্রথম হবে। আজকে যারা সেরা হয়েছেন তাদের অভিনন্দন। যারা হননি তারা আগামীতে যেন হতে পারেন সেজন্য যারা সেরা হয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। তাদের পথ অনুসরন করলে আপনারাও সেরা হবেন।

তিনি বলেন, আপনারা যদি কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে কাজ করেন তাহলে আমাদের বাল্য বিবাহ রোধ করা যাবে। এজন্য শিক্ষার অভাব, দ্রারিদ্যতাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছ। বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য সরকার কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য। অনেকে জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড ট্যাম্পারিং করে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে গুলো নিয়ে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। আমাদের তা বাস্তবায়ন করতে কাজ করতে হবে। আপনারা ফেসবুকে যে ভিডিওগুলো দেখেন পরদিন ওই ভিডিও গুলোই দেখবেন আপনার সামনে আসছে, ফেসবুক আপনাকে জাজ করে সেগুলো দেখাবে। এটাই আর্টিফিসিয়ালী ইনটিলিজেন্স। ২০৪১ সালে হয়ত অসুস্থ্য হলে এখনকার মত আর ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। শরীরে ডিভাইস থাকবে, সে ডিভাইস বলে দিবে কি সমস্যা। সে অনুযায়ী ডাক্তারগণ সেবা দিবেন ও চিকিৎসা করবেন।

তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যা বেশি হ্রাস হলে বয়স্ক লোকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। কর্মক্ষম জনসংখ্যা পাওয়া যাবেনা, তাই আমরা ১টি সন্তান থেকে বেরিয়ে ২টি সন্তানের কথা বলেছি। সকলের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাধারন পড়াশুনা করলে হবেনা। পড়াশুনা করতে হবে কর্মমূূখী ও কারিগরী। দেশে নার্সদের চাকুরী অনেক ভালো। আপনারা জানেন একটা সময় অনেক ভালো মানের মৈস্ত্রী ছিল। তারা অনেক কারুকাজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করতেন। এখন ঐ ধরনের মৈস্ত্রী পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকার কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিয়েছেন। আপনাদের কাজের পাশাপাশি এ বার্তাগুলো সকলের কাছে পৌছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে গৃহহীনদের জমি ও ঘর প্রদান করেছেন। যাদের ঠিকানা ছিলনা তাদের ঠিকানা দিয়েছেন। দিয়েছেন জমি ও গৃহ। গ্রামে যারা সরকারি ম্যাসেজ গুলো জানেনা, আপনারা আপনাদের কাজের পাশাপাশি তাদের বুঝাবেন। সরকারের ম্যাসেজগুলো তাদের কাছে পৌছাবেন। কোন কর্মসংস্থান না করতে পারলে ফিলান্সিং করবেন।
চাঁদপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এনেসথেসিয়া ডা: তন্ময় বড়ুয়া’র পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পননা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: মো: ইলিয়াছ।

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমােেদর দেশের মোট জনসংখার প্রায় ২২ভাগ কিশোর-বিশোরী। সকল পর্যায়ে কিশোর কিশোরী কর্ণার করা হবে। চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরী ৬লক্ষ ৪শত জন। কৈশোরে বিয়ের ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। ১৮বছরের আগে কেউ রক্ত দিতে পারেনা। ছেলেদের পরিপক্কতা ১৮ তেই আসে, কিন্তু মানসিক পরিপক্কতা আসে ২১বছর বয়সে। আমরা চাঁদপুরে এককভাবে ৪৬ভাগ প্রসব সেবা দিয়েছি। আমরা মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের সহায়তায় চাঁদপুরে কাজ করে যাব।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাক্তন) ডা: সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সিভিল সার্জন এর প্রতিনিধি ডা: মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী,বেসরকারি সংস্থা কেমনস এর পরিচালক ডা: মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারি পরিচালক ডা: একেএম আমিনুল ইসলাম।

চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মির্জা শিউলী পারভীন, বেসরকারি প্রজেক্ট মামুনি এর ম্যানেজার ইমরুল হাসান, মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন খান ওপেল, মতলব দক্ষিন উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়ন পরিদর্শক সুমন চন্দ্র সরকার, শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (লক্ষীপুর ইউপি) প্রীতি রানী শীল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুরের অতিরিক্তজেলা প্রশাসক (সার্বিক ) ইমতিয়াজ হোসেন ,চাঁদপুর পুলিশ সুপার এর প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন, চাঁদপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, চাঁদপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা: লতিফা নাছরীন, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো: জয়নাল আবেদীন, মো: গোলাম মোস্তফা, মো: জাকির হোসেন, খুশিদা আক্তার, ইমাম হোসেন, শ্রী শংকর চন্দ্র বিশ্বাস, শাহপরাণ, মজিবুর রহমান, সনজিৎ চন্দ্রসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বালিয়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নাজির আহমেদ।

আলোচনা সভার পূর্বে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান এর নেতৃত্বে জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলায় পরিবার পরিকল্পনা সেবায় শ্রেষ্ঠ হওয়ায় জেলা পর্যায়ে ৯জন ও উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ হওয়া ৬জন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পুরস্কার প্রদান করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

একই রকম খবর