চাঁদপুরে বেকার জেলেদের রিকশাভ্যান বিতরণে অনিয়ম ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার : মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাসজুড়ে জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম চলছে। ফলে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার অভয়াশ্রমে সবধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন সরকারি তালিকায় থাকা অর্ধ লাখেরও বেশি জেলে। কিন্তু তাদের মধ্যে অতিদরিদ্র জেলেদের জন্য জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেখানে রিকশাভ্যান বিতরণে প্রকৃত জেলে নয়, এমন গড়মিল ধরা পড়েছে বুধবার সকালে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে কার্যক্রমটি স্থগিত ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে নামতে পারছেন না জেলেরা। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের প্রায় ৫২ হাজার জেলে। ফলে নদীপাড়ে জাল বুনে অলস সময় পার করছেন তাদের অনেকে।

শুধু তাই নয়, কোনো জেলে যেন জাটকা নিধন করতে না পারেন, তার জন্য নদীতে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বেকার জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সারি সারি রিকশাভ্যান। অতিদরিদ্র জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য বেশ কিছু রিকশাভ্যান নিয়ে আসে জেলা মৎস্যবিভাগ।

কিন্তু এসব বিতরণে পাওয়া গেছে অনিয়ম। তাই বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা তা বর্জন করেন। তবে রিকশাভ্যান যাদের জন্য বরাদ্দ, উপস্থিত এমন ব্যক্তিরাও স্বীকার করেছেন তারা কেউ প্রকৃত জেলে নন। এদের একজন মিজান হাওলাদার (৫০)। চাঁদপুর সদরের ইচুলি গ্রামে তার বাড়ি পেশায় মাটিকাটা শ্রমিক। আরেকজন একই উপজেলার তরপুরচন্ডি এলাকার কৃষক আলী খান (৬০) এবং কয়লাঘাটের বিল্লাল হোসেন (৫২)। এই তিনজন স্বীকার করেন, তারা কেউ জাটকা জেলে অর্থাৎ পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করেন না। তবে কীভাবে জেলে তালিকায় নাম এসেছে এসব নিয়ে মুখ খোলেননি তারা।

এদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী এমন অনিয়মের দায় চাপালেন জেলে নেতাদের ওপর। অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম বেপারী গোঁজামিল দিয়ে অনিয়ম স্বীকার করে জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার যে ২০ জন জেলেকে এখানে রিকশাভ্যান বিতরণের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে, তার মধ্যে দুইজন প্রকৃত জেলে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। রিকশাভ্যান বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখা দরকার।

কারণ, সরকারের অর্থ অপচয় করার কোনো সুযোগ নেই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতে এমন অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজীদা শাহনাজকে প্রধান এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামালউদ্দিনকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে তদন্ত কমিটি অনিয়ম খুঁজে তা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রতিটি রিকশাভ্যান তৈরিতে সরকারি বরাদ্দ মিলেছে ২৫ হাজার টাকা। চাঁদপুর সদর ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মোট ৪০টি রিকশাভ্যান বিতরণ করার কথা ছিল।

একই রকম খবর