চাঁদপুরে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কাজ করছে সেনাবাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা শহর ও ৮ উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে , সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত এবং জনসাধারণকে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী । ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর কাজে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। জনসাধারন সেনাবাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছে । তাদেরকে মাঠে সহযোগিতা করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ । প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছেন না।

জানাগেছে, জেলার ৮ উপজেলার ৪টি করে দুই ভাগে সেনা বাহিনীর দু’টি টীম কাজ করছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বৃত্ত তৈরী, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছেন। এছাড়াও সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় জনসেচতনামূলক কাজ করেছে সেনাবাহিনী। তারা দুই উপজেলার বাজারগুলো টহল দিয়েছেন, লিফলেট বিতরণ করেছেন, সামাজিক দূরত্ব তৈরী করতে বক্স তৈরী করে দিয়েছেন। এসব কাজে সেনাবাহিনীকে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করেছেন।

সরকারি নির্দেশ মোতাবেক চাঁদপুরে দোকান-পাট এবং যাত্রীবাহী গণপরিবহন বাস, লঞ্চ ও ট্রেণ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে পুলিশ বিভাগের লোকজন সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়কে মানুষের চলাচলের বিষয়ে খোজখবর নিচ্ছেন। সেনাবাহীর টিম সারা জেলায় তাদের টহল জোরদার করেছে এবং মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য কাজ করেছে। তারা দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয় বিক্রয় করার জন্য গোল চিহ্নিত স্থান অংকনেও কাজ করেছেন, এবং চার পাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ৮ টি উপজেলায় সততা স্টোর খুলে নিন্মবিত্তের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য তা খোলা হয়েছে, সেখান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১২ টি পন্য ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা হাসপাতাল, ফার্মেসি ও খাবারের দোকানে নিরাপদ দূরত্বের স্থান সাদা কালি দিয়ে মার্কিং করে দিচ্ছেন।

এদিকে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাসির উদ্দীন আহমেদ এর নেতৃত্বে শনিবার সকালে পৌর এলাকায় কাজ করা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর মাঝে মাক্স, গ্লাভস, হ্যাড সেনিটাইজার বিতরন করেন, এবং ফায়ার সার্ভিস এর সহযোগিতা নিয়ে পৌরসভার অর্থায়নে রাস্তায় জিবানু নাসক ছিটিয়ে পানি দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

এই ছাড়া ও সারা পৌর এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ সাখাওয়াত উল্ল্যাহ জানান, জেলায় শনিবার দুপুর ১ টা পর্যন্ত ২৪২ জন হোম কোয়ারান্টাইন এ আছেন এবং ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইন শেষ হয়ে যাওয়ায় ৮৯ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

আর শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর সদর হসপিটালে একজন কিশোরের শরিরে কোরনা ভাইরাসের সকল উপসর্গ থাকায় তাকে হসপিটালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় আস্তে আস্তে হোম কোয়ারান্টাইন এর সংখ্যা কমে আসতেছে, আর যাদের হোম কোয়ারান্টাইন শেষ হলো তাদের সাথে ও যোগাযোগ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে নতুন করে কোন উপসর্গ দেখা দেয় কিনা তা জানার জন্য। আমাদের মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে।

একই রকম খবর