চাঁদপুরে মানববন্ধনের বিরুদ্ধে শীর্ষ সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের নিন্দা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : তথাকথিত বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের ব্যানারে গত ৩০ মার্চ চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে অঙ্গিকার ও রক্তধারার রুপ পরিবর্তন  ইস্যুতে ঢাকা থেকে এসে যারা মানব বন্ধন করেছে, সে মানববন্ধনের বিষয়ে চাঁদপুরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কোনরুপ যোগাযোগ না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন  সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে, থিয়েটার ফোরাম ও চাঁদপুর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাসহ চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ জানান, যারা বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের নামে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে, তারা কেউ চাঁদপুরের সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে, থিয়েটার ফোরাম ও চাঁদপুর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাসহ চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেনি।

হঠাৎ করেই এ ধরনের একটি মানববন্ধনে মিলিত হয়েছে যা চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক বৃহৎ পরিসরের নেতৃবৃন্দকে বিস্মিত করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন অঙ্গিকারের রং পরিবর্তন ও নেমফলক ইস্যুতে যৌক্তিক দাবির পক্ষে অবশ্যই চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো একমত পোষণ করবে। কিন্তু সে ইস্যুতে মানববন্ধন করার পরিকল্পনার পূর্বে অবশ্যই চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক বৃহৎ পরিসরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসার প্রয়োজন বা জানানোর প্রয়োজন ছিলো।

তাছাড়া যে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সে দাবির সাথে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি কতটুকু যুক্তিসম্মত! হঠাৎ করে এ ধরনের মানববন্ধন চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক বৃহৎ পরিসরের নেতৃবৃন্দকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। যা খুবই দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে, থিয়েটার ফোরাম চাঁদপুরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে  প্রদান করতে গিয়ে,

জেলা থিয়েটার ফোরাম সভাপতি নাট্যজন শহীদ পাটোয়ারী জানান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা ভ্যানুতে ৩দিনব্যাপী অভিনয় কর্মশালা শেষ দিন ছিলো ৩০ মার্চ।

আমি উক্ত কর্মশালার প্রধান সমন্ময়ক হিসেবে অনেক ব্যাস্ততায় ছিলাম। ঐ দিন সকালে চাঁদপুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক সময়ের নাট্য নির্দেশক ও নাট্যকার লিটন ভুইয়া সকালে আমাকে মোবাইল করে জানান চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গিকার মূল অবয়ব পরিবর্তন করা হয়েছে।

এবং সে সাথে ১৯৭১ এ-র চাঁদপুরের গনহত্যার স্থান বড়ষ্টেশন মোল হেডে নির্মিত রক্তধারা রং পরিবর্তন ও তার নামকরণ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ ৩০ মার্চ আমরা ভাস্কর্য শিল্পী পরিষদের ব্যানারে ঢাকা থেকে এসে বেশ কজন সুনামধন্য ভাস্কর্য শিল্পী চাঁদপুরে কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করবে।

এ ব্যাপারে আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি বলেছি আমি কর্মশালা নিয়ে সমন্বয়ক হিসেবে অনেক ব্যস্ত। তারপরও একজন স্বাধীনতা স্বপক্ষের মানুষ হয়ে অঙ্গিকার অবয়ব ঠিক রাখার ব্যাপারে যেহেতু ঢাকা থেকে শিল্পীরা আসবে আমি তাদের সাথে সহমত প্রকাশ করি। পরবর্তিতে তারা মানববন্ধনের কথা বললে, আমি বলেছি মানববন্ধন কর্মসূচি শিল্প কলার সামনে হবে কেনো! এটাতো অঙ্গিকারের সামনে করার কথা!

পরবর্তীতে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে মানববন্ধনে মিলিত হয়। আমি সে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করিনি। এমনকি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারলাম সে মানব বন্ধনে জেলা প্রশাসকের অপসারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আমার সাথে যে আলোচনা করা হয়েছে সে আলোচনার সাথে ব্যানারের লেখা অযৌক্তিক মনে হয়েছে।

একই সাথে আমার ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে বলা হয়েছে আমি নাকি সেদিন মানববন্ধনের ব্যানার সরবরাহ করেছি। অথচ সেদিন ব্যানার এনেছে আনন্দধ্বনির অধ্যক্ষ রফিক আহমেদ মিন্টু। যারা আমাকে নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি তপন সরকার জানান, আমি ৩০ মার্চ ঘটনার দিনে সুনামগঞ্জ তীর্থে ছিলাম। সেখানে ফেসবুক মাধ্যমে মানববন্ধনের কথা জানতে পারলাম। পরবর্তিতে আমি আমাদের চাঁদপুরের সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে, থিয়েটার ফোরাম ও চাঁদপুর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাসহ চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করি। নেতৃবৃন্দ আমাকে জানায় তারা কেউ এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। আমি মনে করি অঙ্গিকার ও রক্তধারা ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের অপসারণ আসবে কেনো!

তাছাড়া যদি অঙ্গিকার ও রক্তধারার রুপ পরিবর্তন হয়েই থাকে তাহলে সেটা সংস্কার কমিটি ও প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা যেতো। কিন্তু তা না করে হঠাৎ করে এসে শিল্পী সমাজের নামে এ ধরনের বিভ্রান্তীমুলক মানববন্ধন আমাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন জানান, গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের নামে একটি মানববন্ধন হয়েছে জেনেছি। তারা কারা! চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দকে অবহিত না করে হটাৎ করে এ ধরনের কর্মসূচি আমাদেরকে চরম বিভ্রান্তী তৈরি করছে। তাছাড়া এক ইস্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসকের অপসারণের দাবি আসবে কেনো! যারা এ ধরনের কার্যক্রম করেছে তারা অতিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সময় কোথায় ছিলো! আমি এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের সাধারন সম্পাদক হারুন আল রশিদ বলেন, স্পর্শকর বিষয় নিয়ে সমাবেশ হবে অথচ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে, থিয়েটার ফোরাম চাঁদপুরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে কেনো জানানো হলোনা? অঙ্গীকারের পাদদেশে না হয়ে, কেনো শিল্পকলা একাডেমির সামনে মানববন্ধন হলো? অঙ্গীকার ও রক্তধারার সংস্কারের ক্রুটি নিয়ে- ব্যানারে জেলা প্রশাসকের অপসারনের দাবী আসবে কেনো? সতর্ক থাকতে হবে এবং জানতে হবে এরা কারা? তথাকথিত শিল্পী সমাজের ব্যানারে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কেহই চাঁদপুরের সংস্কৃতির নেতৃত্বে  নেই-অনেকটা বসন্তের কৌকিল এবং সাইবেরিয়ার অতিথি পাখির ন্যায়, আমরা কেহই এই বিতর্কিত দ্বায়িত্ব বহন করবোনা।

 

একই রকম খবর