চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মারক ভাস্কর্যটি বখাটদের নিরাপদস্থল

স্টাফ রিপোর্টার :  চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বারক ভাস্কর্যটি অন্ধকারে নিমর্জিত হয়ে মাসের পর মাস এটির নির্মিত স্থাপত্যে কালো ছত্রাক পড়ে অযত্নে- অবহেলায় পড়ে থেকে এর সুন্দর্য হারিয়ে এর সঠিক রুপটি ধারন করে না থেকে অন্য রুপ নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যাচেছ।

এতে করে নতুন প্রজন্ম এ মুক্তিযুদ্বের ইতিহাস দেখা থেকে বঞ্চিত হতে চলছে বলে তাদের অভিভাবকদের অভিমত। অঙ্গিকারটি অন্ধকারে থাকার কারনে এখানে নেশাখোর ও বখাটেরদের বিচরন ভূমিতে পরিনত হচেছ বলে লক্ষ করা যাচেছ দিন ও রাতে। এখানে শহরের বিভিন্ন স্থানের মাদকাসক্তো যুবকরা এসে তাদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়ে এখানকার পবিত্রতা নস্ট করে আড্ডারস্থল বানিয়ে এখানে বসে মাদক সেবন করে চলছে বলে একাধিক সচেতন ব্যাক্তির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহলের মতে এ গুরুত্বপূর্ন মুক্তিযুদ্বের স্মৃতি ধারন করার স্বারক ভাস্কর্যটি দেখার যেন কেহ নেই!

চাঁদপুর শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত মুক্তিযুদ্বের স্বারক ভাস্কর্য অঙ্গিকার। চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্বের অনেক স্মৃতি ফলক স্থাপিত হলেও,এ শহীদ মুক্তিযোদ্বা সড়কের রেলওয়ে লেকের উপর প্রথম নির্মিত হয় মুক্তিযুদ্বের স্বারক ভাস্কর্য অঙ্গিকার। এটি তৎকালিন সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম শামসুল আলম এর ঐকান্তিক চেতনায় ও প্রচেস্টায় এ মুক্তিযুদ্বের স্মারক ভস্কির্যটি নির্মিত হয়।

এ ভাস্কর: নির্মানে শিল্পীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ঢাবির অপরাজেয় বাংলাদেশের ভাস্কর নির্মাতা প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ। তিনি বর্তমানে প্রয়াত(বেঁচে নেই)।

এ অঙ্গিকারটি নির্মিত হয় ১৯ বৈশাখ ১৩৯৬ বাংলা,২মে ১৯৮৯ সালে। তৎকালিন মহামান্য রাস্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এর শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস শুরু হলে শহরের মুক্তিযোদ্বা সড়কের হাসান আলী সরকারী হাই স্কুল মাঠে বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তখন মুক্তিযুদ্বের কথা মনে পড়ে যায় সবার অন্তরে। বর্তমান প্রজন্মের নবীন,কিশোর-কিশোরী,যুবক-যুবতীসহ মুক্তিযুদ্বে অংশ গ্রহনকারী যোদ্বারা ও তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যে এ অঙ্গিকারের গুরুত্ব কি তা অন্তরে লালিন হয় । ১ ডিসেম্বর অঙ্গিকারের সামনে আলো ঝঁলমল করতে থাকে। মনে হয় নতুন করে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে।

ডিসেম্বর মাস চলে গেলে এর গুরুত্ব অনেকাংশে কমে যেতে দেখা যায়। নতুন প্রজন্ম এ অঙ্গিকার কি এবং কেন তা’বুঝার চেস্টা করে। তারা জানতে চায় ও জেনে নেয় এটি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্বের সময় পাকবাহনীর বিরুদ্বে ব্যবহৃত একটি অস্ত্রের দৃশ্য (হাতিয়ার)। ডিসেম্বর মাস চলে গেলে মুক্তিযুদ্বের স্মৃতি হিসেবে নির্মিত মুক্তিযুদ্বের স্বারক ভাস্কর্য অঙ্গিকার চত্বরে চলতে থাকে নেশাখোর ও বখাটেদের উপদ্রব।

লেকের উপর মাঝ খানে এস্থাটি অন্ধকারাচছন্ন থাকায় এখানে মাদক-সেবনকারী ও বখাটে যুবকদের বিচরন লক্ষ্য করা যায় প্রতিদিন। এ ছাড়া উৎতি বয়সি বখাটে যুবক-যুবতীরা এ স্থানটি অসামাজিক কাজের নিরাপদ স্থান মনে করে এখানে এসে তারা তাদের মনের তৃপ্তি উপভোগে করে যেতে দেখা যাচেছ। শুধু মনের তৃপ্তি উপভোগই না।

এ তৃপ্তি উপভোগ করতে গিয়ে তারা অঙ্গিকারকে করে তোলে অপবিত্র। অঙ্গিকারের গায়ে তারা অশালিন ভাষায় বিভিন্ন খারাপ মন্তব্য লিখে মুক্তিযুদ্বের অঙ্গিকারকে আরো করে তোলে রিতিমত অশ্রদ্বা। স্বাধীনতার পবিত্র স্বারক ভাস্কর্যটির গায়ে যে সব ভাষা লিখা রয়েছে,তা সেখানে গিয়ে স্বচোঁখে না দেখলে বুঝা যাবেনা যে অঙ্গিকারটি কতখানি অপবিত্র করে রেখেছে বখাটেরা। অভিজ্ঞ মহলের মতে এর দায়িত্বে থাকা সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখবেন এবং এর পবিত্রতা স্থায়ী ভাবে রক্ষার জন্য সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌর প্যানেল মেয়র মো: ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী বলেন,এ অঙ্গিকারটি আমাদের দায়িত্বে যেহেতু রয়েছে,সেহেতু আমরা বিষয়টি যেনে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইব্রাহিম খলিল বলেন,অন্ধকারের জন্য লাইটিংটির বিষয় পৌর সভা দেখবে। এখানে বখাটেদের আড্ডার বিষয়টি আমি দেখবো। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা ও গ্রহন করবো। আমি যখন জানতে পেরেছি। সেহেতু নিশ্চয় এটার ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

একই রকম খবর

Leave a Comment